কলকাতায় মেসির মূর্তি (Lionel Messi Statue) নিয়ে টানাপোড়েনের খবর এবার পৌঁছে গেল লাতিন আমেরিকাতেও! ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা-দুই দেশের সংবাদমাধ্যমেই জায়গা করে নিয়েছে লেকটাউনে মেসির মূর্তি নিয়ে টানাপোড়েনের খবর। বুধবার ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম ও'গ্লোবোতে প্রকাশিত হয়েছে মেসির মূর্তি স্থানান্তরের খবর। আর্জেন্তিনীয় সংবাদপত্র লা নাসিওঁতেও একই খবর প্রকাশিত হয়েছে।
গত বছর ডিসেম্বর মাসে মেসির কলকাতা সফরে ভার্চুয়ালি ৭০ ফুটের মূর্তিটির উদ্বোধন করেন খোদ আর্জেন্টিনীয় ফুটবল তারকা। পাশে ছিলেন বিধাননগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। মূলত, তাঁর তত্ত্বাবধানে ও উদ্যোগে মূর্তিটি তৈরি হয়। শিল্পী মন্টি পাল নেতৃত্ব দেন গোটা প্রকল্পের। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই মূর্তির অবস্থা সঙ্গিন। হাওয়ায় দুলছে বিশাল স্থাপত্যটি। বেদির উপর ৪৪ মিটারের মূর্তি নিয়ে লেকটাউনবাসী রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই মূর্তি যেকোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
যাতে বড়সড় কোনও বিপদ না হয়, তাই অতি তৎপর পূর্ত দপ্তর। মঙ্গলবার রাতেই মূর্তিটির চারদিকে দড়ি বেঁধে রাখা হয়েছে। শিল্পী মন্টি পালকে ডেকে আলোচনা করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, উপরের মূর্তিটিকে অক্ষত রেখে সরানো হবে। নিচের বেসমেন্টটি আর সরানো হবে না। তবে কোথায় সরানো হবে, তা জানা যায়নি। আসলে ওই মূর্তিটি একসঙ্গে তৈরি হয়নি। আলাদা আলাদা অংশ জুড়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে একসঙ্গে ভাঙা কঠিন। তাই মূর্তি না ভেঙে স্থানান্তর করাই একমাত্র উপায়।
গোটা বিষয়টি নিয়ে আগের তৃণমূল সরকারকে তোপ দেগেছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের উক্তি তুলে ধরেছে আর্জেন্টাইন সংবাদপত্র। বুধবার মূর্তির চারদিকে দড়ি বাঁধা হয়েছে, তুলে ধরা হয়েছে সেই খবরও। 'মূর্তি হাওয়ায় দুলছে', এই কথাও লেখা হয়েছে লা নাসিওঁ সংবাদত্রে। প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের তোপ, "মেসিকে নিয়ে এসে অপমান করা হল। একটা মূর্তি বানানো হল, সেটা এক বছরও টিকল না। এটা কী ধরনের অসম্মান!" সবমিলিয়ে, মেসির দুলতে থাকা মূর্তি নিয়ে আলোড়ন গোটা বিশ্বে।
