ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করতে চাপ দেওয়া হবে, বিনিময়ে শুল্ক হ্রাস ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা হবে ইরানের সঙ্গে। বুধবার সংঘর্ষবিরতি সংক্রান্ত মুখোমুখি বৈঠক প্রসঙ্গে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ইরানে শাসক পরিবর্তনের বিষয়েও আশাবাদী ট্রাম্প।
বুধবার ট্রুথ সোশালের পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, সংঘাত পরবর্তীকালে “ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে” আমেরিকা। একটি বৃহত্তর চুক্তির মূল বিষয়গুলি ইতিমধ্যে স্থির করা হয়েছে। সমাজমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ হবে। ইরানের সঙ্গে মিলে মাটির গভীরে পুঁতে রাখা সমস্ত পারমাণবিক ‘ধুলো’ খুঁড়ে বের করে অপসারণ করবে আমেরিকা।” এইসঙ্গে দেশটির সমস্ত পারমাণবিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। যাতে তারা সুদূর ভবিষ্যতেও পরমাণু অস্ত্র বানাতে না পারে। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামোগুলি কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে খবর। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালাবে না। অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ মুক্ত করবে ইরান। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসবে দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর।
এদিকে ইরানের তিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জটিলতা ছিল। এদিকে ট্রাম্পের সময়সীমাও শেষ হয়ে যাচ্ছিল। অন্তিমলগ্নে যুদ্ধবিরতিতে হস্তক্ষেপ করে চিন। এরপরই সম্মত হয় দু’দেশে। ইরানের তরফে যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদন দেন সে দেশের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই।
