shono
Advertisement
US-Iran Ceasefire

পাকিস্তান বোড়ে মাত্র, ইরান যুদ্ধে নিঃশব্দে ঘুঁটি সাজাচ্ছে চিন! বেজিংয়ের হস্তক্ষেপেই সংঘর্ষবিরতি?

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে চিনের যে ভূমিকা রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার নিয়েছেন ট্রাম্পও। সংবাদসংস্থা ‘এপি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গোটা আলোচনা পর্বে আমি শুনেছি বেজিংও জড়িত ছিল।’ প্রাথমিকভাবে, চীন পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর-সহ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মিলে এই সংঘাতের অবসানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ফলে চিন তড়িঘড়ি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে।
Published By: Subhodeep MullickPosted: 05:18 PM Apr 08, 2026Updated: 05:32 PM Apr 08, 2026

‘আজ গোটা একটা সভ্যতার মৃত্যু হবে’- মঙ্গলবার ঠিক এই ভাষাতেই ইরানকে হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার মোক্ষম জবাবও দিয়েছিল তেহরান। কিন্তু ১০ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সংঘর্ষবিরতি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরা চলা যুদ্ধের অবসান (যদিও আপাতত ২ সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে ইরান এবং আমেরিকা)। প্রায় ১ মাস যুদ্ধবিরতির চেষ্টা করলেও তা কার্যকর হয়নি। কিন্তু এই ১০ ঘণ্টায় কী এমন ঘটল যে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হল দু’পক্ষ। নেপথ্যে চৈনিক চাল!

Advertisement

প্রাথমিকভাবে আমেরিকা এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব পাকিস্তানকে দিলেও আসল খেলোয়ার চিন। বুধবার ইরানের তিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জটিলতা ছিল। এদিকে ট্রাম্পের সময়সীমাও শেষ হয়ে যাচ্ছিল। অন্তিমলগ্নে আসরে নামে চিন। এরপরই যুদ্ধ থামানের সিদ্ধান্ত নেয় দু’দেশে। ইরানের তরফে যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদন দেন সে দেশের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে চিনের যে ভূমিকা রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার নিয়েছেন ট্রাম্পও। সংবাদসংস্থা ‘এপি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গোটা আলোচনা পর্বে আমি শুনেছি বেজিংও জড়িত ছিল।’

যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে চিনের যে ভূমিকা রয়েছে, তা কার্যত স্বীকার নিয়েছেন ট্রাম্পও। সংবাদসংস্থা ‘এপি’-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘গোটা আলোচনা পর্বে আমি শুনেছি বেজিংও জড়িত ছিল।’ প্রাথমিকভাবে, চীন পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর-সহ মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে মিলে এই সংঘাতের অবসানের চেষ্টা করছিল। কিন্তু ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা ঘনিয়ে আসায় এই সংঘাত একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের রূপ নেওয়ার পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। ফলে চিন তড়িঘড়ি ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসে। দু'জন চিনা কর্তাকে উদ্ধৃত করে এমনটাই জানিয়েছে সংবাদসংস্থা ‘এপি’। সুতরাং এটা পরিষ্কার যে যুদ্ধবিরতিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা চিনের। পাকিস্তানের নয়। 

যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হতেই তেহরানে খুশির হাওয়া। ছবি: এএফপি।

তাৎপর্যপূর্ণভাবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে চীন এবং ইরানের আরও এক বন্ধু রাশিয়া, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আনা একটি প্রস্তাব আটকে দেয়। এই প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার জন্য শক্তি প্রয়োগের কথা বলা ছিল। বেজিং জানিয়ে দেয়, রাষ্ট্রসংঘের প্রস্তাবটি ইরানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। তবে যুদ্ধবিরতিতে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে চিন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। সূত্রের খবর, সম্প্রতি চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ইরান, ইজরায়েল, রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় ২৬ বার ফোনে কথা বলেছেন। এমনকী বিশেষ দূত পাঠিয়ে দেশগুলির যুদ্ধ সংক্রান্ত কূটনীতিতেও নাকি চিন অংশগ্রহণ করেছিল বলে খবর।

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্প চিনের ভূমিকার কথা স্বীকার করলেও, তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বেজিংয়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাই স্পষ্টভাবে লেখা ছিল। পাশাপাশি, বিবৃতিতে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাসর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের নামও উল্লেখ ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে চিনের নাম বাদ রাখা ট্রাম্পের কৌশলগত পদক্ষেপ ছিল।

যুদ্ধবিরতিতে ট্রাম্প চিনের ভূমিকার কথা স্বীকার করলেও, তাঁর আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বেজিংয়ের কোনও উল্লেখ ছিল না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাই স্পষ্টভাবে লেখা ছিল।

লেখক ও ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ শানাকা আনসেলেম পেরেরা বলেন, "যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকা যদি আনুষ্ঠানিকভাবে চিনকে স্বীকৃতি দেয় তাহলে গোটা বিশ্বে ওয়াশিংটনের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হবে। যে যুদ্ধ আমেরিকা শুরু করেছিল, দিনের শেষে সেই যুদ্ধ থামাল চিন - গোটা বিশ্বের কাছে এরকমই একটি বার্ত যাবে।" তিনি আরও বলেন, "এক্ষেত্রে পাকিস্তানকে সামনে এনে কৃতিত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প এমন একটি ধারণা বজায় রাখতে চাইছেন যে, সংঘাতের ফলাফল নির্ধারণে মূল চালিকাশক্তি ছিল আমেরিকাই। একইসঙ্গে বন্ধু পাকিস্তানকে একটি বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসাবেও তুলে ধরতে চান।"

আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধবিরতিতে চিনই যে আসল খেলোয়াড়, সেই তত্ত্বকে আরও প্রকট করে তোলে পাকিস্তানের একটি পদক্ষেপ। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগে, পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ নিজের এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা দু'সপ্তাহের জন্য বিলম্বিত করতে অনুরোধ করেন। একইসঙ্গে ইরানকে হরমুজ খোলারও আহ্বান জানান। কিন্তু মজার বিষয় হল, শাহবাজের পোস্টের একদম প্রথমে লেখা ছিল 'খসড়া মেসেজ'। এরপরই বিশ্বজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বার্তাটি আগে থেকেই লেখা ছিল, যেটা শাহবাজকে পাঠিয়েছিল হোয়াইট হাউস। তারাই এটা পোস্ট করার জন্য পাক প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছিল। গবেষক ও অধ্যাপক অ্যাডাম ককরেনের কথায়, "পাকিস্তান আমেরিকার হাতের পুতুল হিসাবে কাজ করছে। মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নয়।"

শাহবাজের সেই বিতর্কিত পোস্ট।

মার্কিন-ইরান সংঘাতে চিন নীরব থাকলেও, বিশ্লেষকরা বলছেন, বেজিং আসলে নিঃশব্দে ঘুঁটি সাজাচ্ছে। আড়ালে রয়েছে বড় অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত স্বার্থ। প্রথমত, চিন বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ। তাদের মোট তেলের বড় অংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যা প্রবাহিত হয় হরমুজ দিয়ে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দীর্ঘদিন রুদ্ধ হয়ে থাকলে চিনের অর্থনীতি সরাসরি বিপর্যস্ত হতে পারত। দ্বিতীয়ত, সংঘাত চলাকালীনও ইরানের কাছ থেকে তেল ক্রয় চালিয়ে গিয়েছে চিন। বাজারদরের তুলনায় কম দামে তারা জ্বালানি পেয়েছে। এর ফলে এই যুদ্ধ তাদের অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব ফেলেনি। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তৃতীয়ত, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হয়, বিশ্ব অর্থনীতি তত অস্থির হয়ে ওঠে। চিন যেহেতু রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ, তাই বিশ্বব্যাপী মন্দা দেখা চিনা পণ্যের চাহিদা কমবে। ফলে সরাসরি সমস্য়ায় পড়বে বেজিং।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement