ইরান যুদ্ধ বুঝিয়ে দিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির 'পরশপাথর' হরমুজ প্রণালী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজের দখল নেবেন বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ইরানের পালটা হুমকি---যদি আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকে, তবে হরমুজ দিয়ে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেব না। উল্লেখ্য, গোটা বিশ্বের জ্বালানি তেলের ২০ শতাংশ হরমুজের পথে অসংখ্য দেশে রপ্তানি হয়। দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বুঝিয়ে দিচ্ছে এই জলপথটি বিশ্ব অর্থনীতির জন্য কতখানি গুরুত্বপূর্ণ।
সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে সরাসরি ইরানকে হুমকি দেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, তেহরান যদি জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক রপ্তানি রোখার চেষ্টা করে, তবে শেষ দিন দেখতে হবে ওদের। তাচ্ছিল্যের সুরে ট্রাম্প বলেন, "ওদের যেটুকু কিছু গুলিগোলা ছোড়ার ছিল, করে ফেলেছে, আর কিছু চেষ্টা না করাই ভালো, নইলে দেশটা শেষ হয়ে যাবে। এর পর যদি খারাপ কিছু করে, তাহলে ইরান শেষ হয়ে যাবে। আর কখনও ইরানের নাম শোনা যাবে না।" এর পরেই ট্রাম্প বলেন, "হরমুজ প্রণালী এখন উন্মুক্ত কিন্তু দখল নেওয়ার কথা ভাবছি।"
পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকির পরেই পালটা হুমকি দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার সকালে দেশটির সেনা ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি) মন্তব্য করে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা এই অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও রপ্তানি করতে দেবে না।
হরমুজ প্রণালী কেন পরশপাথর?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জলপথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। সৌদি আরব, ইরান, ইরাক, কুয়েত, কাতার, বাহরিন এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহী এই প্রণালির মাধ্যমে তেল রপ্তানি করে থাকে। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস—বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। কাতার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ LNG রপ্তানিকারক দেশ। তারা হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে গ্যাস রপ্তানির ওপরেই নির্ভরশীল। এই সব কারণেই হরমুজ প্রণালীকে 'বিশ্বের জ্বালানির লাইফলাইন’ বলা হয়।
