২ সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে আমেরিকা-ইরান। ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনেই ইরানের সমস্ত সামরিক বিভাগকে নতুন করে গোলাবর্ষণ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তার পরও হুঙ্কার দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমে একটি বিবৃতি জারি করেছেন মোজতবা। সেখানে তিনি বলেছেন, "আমরা সামরিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। তার অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের হাত ট্রিগারের রয়েছে। শত্রুপক্ষ সামান্যতম ভুল করলেই আমরা পূর্ণ শক্তিতে তার জবাব দেব। তবে আপাতত সেনাবাহিনীর সমস্ত শাখাকে নতুন করে সংঘর্ষে জড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি।" অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই সৌদি আরব, বাহরিন এবং কুয়েতে সাইরেনের শব্দ শোনা গিয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, এই তিন দেশের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। তবে সেগুলি আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়টি নিয়ে তেহরানের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও মেলেনি।
ভারতীয় সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দু’পক্ষ সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে খবর। যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী দু’সপ্তাহ আমেরিকা ইরানে কোনও রকম সামরিক অভিযান চালাবে না। অন্যদিকে, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ মুক্ত করবে ইরান। সূত্রের খবর, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসবে দুই দেশ। এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর। উল্লেখ্য, ইরান আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত হলে তবেই তারা হরমুজ পুরোপুরি মুক্ত করা হবে। সাময়িক যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে নয়।
ইরানের তিন কর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় ছিল পাকিস্তান। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু জটিলতা। এদিকে ট্রাম্পের সময়সীমাও ছিল শেষের পথে। অন্তিমলগ্নে চিনের হস্তক্ষেপে পাক প্রস্তাবে রাজি হয় ইরান এবং আমেরিকা। যুদ্ধবিরতিতে অনুমোদন দেন ইরানের নয়া সুপ্রিম লিডার।
