আগামী বৃহস্পতিবারই ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি। তার আগে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল অটোয়া। ২৬/১১-র জঙ্গি তথা মূলচক্রী তাহাউর রানার নাগরিকত্ব বাতিলের তোড়জোড় শুরু করে দিল করনির সরকার। কানাডার প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর আমলে দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। ট্রুডোর ভারত-বিদ্বেষী মনোভাবের প্রমাণ বারাবার মিলেছিল। কিন্তু ট্রুডোর উত্তরসূরি কারনি সেই পথে যে হাঁটতে নারাজ, তার প্রমাণ ফের একবার মিলল। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে উদ্যোগী তিনি।
কানাডার সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সে দেশের অভিবাসন, শরণার্থী এবং নাগরিকত্ব (আইআরসিসি) দপ্তর ইতিমধ্যেই তাহাউরের সঙ্গে এবিষয়ে যোগাযোগ করেছে। পাক-বংশোদ্ভূত তাহাউর (Tahawwur Rana) বর্তমানে ভারতে বন্দি রয়েছে। ২৬/১১-র মূল চক্রী ছিল সে। তার সঙ্গে সরাসরি পাক মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদী সংগঠন লস্কর-ই-তইবার যোগ ছিল। ১৯৯৭ সালে সে কানাডায় পা রাখে। এরপর ২০০১ সালে সে কানাডার নাগরিকত্ব পায়।
কিন্তু কেন তাহাউরের নাগরিত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কানাডা? আইআরসিসি জানিয়েছে, তাহাউরকে নাগরিকত্ব মঞ্জুর করা হয়েছিল ভুল তথ্যের ভিত্তিতে। তাদের অভিযোগ, ২০০০ সালে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সময় সে একটি ভুয়ো ঠিকানা দিয়েছিল। আইআরসিসি-র বক্তব্য, নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের সময় তাহাউর দাবি করেছিল, গত চার বছর সে অটোয়া এবং টরন্টোতে বসবাস করেছে। কানাডার বাইরে মাত্র ছ’দিন কাটিয়েছে। কিন্তু রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, তাহাউর ওই সময়ের বেশিরভাগ অংশই আমেরিকার শিকাগোতে কাটিয়েছে। সেখানে তার বহু সম্পত্তি ছিল এবং বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গেও সে যুক্ত ছিল। তাহাউরের নাগরিকত্ব বাতিলের মামলাটি বর্তমানে কানাডার ফেডারেল আদালতে বিচারাধীন। ২৬/১১-র মূলচক্রীর নাগরিকত্ব খারিজ করা হবে কি না, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই নেবে।
