আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত থামাতে আসরে পাকিস্তান! জানা যাচ্ছে, যুদ্ধ থামাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা পাক সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে কথা বলেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সূত্রের খবর, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে শীঘ্রই ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছে ইরান ও আমেরিকা। পাকিস্তানের পাশাপাশি মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে আরও দুই দেশ তুরস্ক ও মিশর।
তিন সপ্তাহের বেশিদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালাচ্ছে আমেরিকা ও ইজরায়েল। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের তৈল বাণিজ্যের প্রধান জলপথ হরমুজ অবরুদ্ধ করেছে ইরান। এই ঘটনায় প্রভাবিত গোটা বিশ্ব। ট্রাম্পও বুঝতে পারছে এই যুদ্ধ যতটা সহজ হবে বলে ভাবা হয়েছিল আসলে ততটা সহজ নয়। হরমুজ খুলতে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল আমেরিকা। না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়। এরপর অবশ্য সম্পূর্ণ পালটি খেয়ে আগামী ৫ দিন হামলা না চালানোর প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। গোটা ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের দাবি, ট্রাম্প এখন যুদ্ধ থেকে বেরোনোর পথ খুঁজছেন। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় মাঠে নামল পাকিস্তান।
সম্প্রতি ফোনে কথা হয়েছে ট্রাম্প ও মুনিরের। সেখানেই শান্তি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানের তরফে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর।
সংবাদ সংস্থা রয়টর্সের দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ থামাতে বেশকিছুদিন ধরেই তৎপর হয়েছে পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশর। সেইমতো সম্প্রতি ফোনে কথা হয়েছে ট্রাম্প ও মুনিরের। সেখানেই শান্তি বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয় পাকিস্তানের তরফে। অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেস্কিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর। পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ফেরাতে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে পাকিস্তান। ইজরায়েলের এক আধিকারিকও সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, সবপক্ষকে নিয়ে ইসলামাবাদে হতে পারে এই বৈঠক। সেক্ষেত্রে এই বৈঠকে আমেরিকার প্রতিনিধিদলে থাকতে পারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স ও দুই কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলে থাকতে পারেন সেখানকার পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। যদিও এই বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে হোয়াইট হাউসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতায় এগোলেও তাদের প্রস্তাবে ইজরায়েল রাজি হবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, ইজরায়েল দেশের কট্টর বিরোধী পাকিস্তান। অন্যদিকে আবার ইজরায়েলের অন্যতম শত্রুদেশ পাকিস্তান। সবমিলিয়ে ইসলামাবাদে যদি এই বৈঠক বসে সেখানে ইজরায়েলের প্রতিনিধির উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা কতদূর কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।
