shono
Advertisement
Hormuz Internet Cables

হরমুজের তলদেশে আধুনিক বিশ্বের ধমনী 'ইন্টারনেট কেবল', ইরানের হামলায় দেখা দেবে সভ্যতার সংকট?

জঙ্গি সংগঠন হাউথি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এবার লোহিত সাগরের বাব এল-মান্ডেব প্রণালীতে হামলা চালাবে। সভ্যতার ধমনী দুই প্রণালী বন্ধ হলে তীব্র জ্বালানির অভাব তৈরি হবে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বাস্তবেই সভ্যতার সংকটে পড়বে বিশ্ব।
Published By: Kishore GhoshPosted: 03:13 PM Mar 19, 2026Updated: 05:22 PM Mar 19, 2026

ইরান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়াতেই সবচেয়ে বড়় অস্ত্র হয়ে উঠছে জ্বালানি! হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ। এর মধ্যে পশ্চিম এশিয়ার তেলের ভাণ্ডারগুলিতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। লক্ষ্য হল গোটা বিশ্বকে জ্বালানি সংকটে ফেলে দেওয়া। এর মধ্যেই নতুন আতঙ্ক--- বিশ্বের বড় অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে তেহরান। কীভাবে? হরমুজ প্রণালীর নিচ দিয়ে গিয়েছে ইন্টারনেট সংযোগের প্রধান কেবল (Hormuz Internet Cables)। সমর বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় কোণঠাসা ইরান হরমুজের নিচ দিয়ে যাওয়া ইন্টারনেট সংযোগ ছিন্ন করতে পারে। সেক্ষেত্রে মুহূর্তে ভেঙে পড়বে ভারত-সহ বিশ্বের অসংখ্য দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা।

Advertisement

হরমুজ প্রণালী তলদেশ দিয়ে যেমন ইন্টারনেট কেবল গিয়েছে, তেমনই আরেক প্রণালী বাব এল-মান্ডেবের নিচ দিয়েই গিয়েছে অন্তর্জাল সংযোগ। আশঙ্কার কথা হল ইরানের মদতপুষ্ট লেবাননের জঙ্গি সংগঠন হাউথি হুঁশিয়ারি দিয়েছে, লোহিত সাগরের প্রণালী বাব এল-মান্ডেবে হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে দেবে তারা। 'সভ্যতার ধমনী' দুই প্রণালী বন্ধ হলে তীব্র জ্বালানির অভাব তৈরি হবে বিশ্বজুড়ে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে বাস্তবেই সভ্যতার সংকট দেখা দেবে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের চিন্তা, ইচ্ছাকৃত অন্তর্জাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা না হলেও মিসাইল হামলার জেরে দুর্ঘটনাবশত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সমুদ্রগর্ভস্থ কেবল লাইন।

বৈশ্বিক টেলিকম, ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো শিল্পের সংবাদ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ক্যাপাসিটি গ্লোবাল জানিয়েছে, লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে সতেরোটি 'সাবমেরিন কেবল' গিয়েছে। এই কেবলগুলো ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকাকে সংযোগকারী ইন্টারনেট ট্র্যাফিকের সিংহভাগ বহন করে থাকে। এতএব, এর গুরুত্ব যে অপরিসীম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগরের সক্রিয় সমুদ্রগর্ভস্থ কেবলগুলো হল এএই-১, ফ্যালকন, গালফ ব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল কেবল সিস্টেম এবং টাটা-টিজিএন গালফ। এই লাইনগুলি ভারতের সঙ্গে বাকি বিশ্বের ডেটা আদানপ্রদান করে। ফলে হরমুজ এবং বাব এল-মান্ডেবের তলদেশের কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভারতের পাশাপাশি থমকে যাবে বাকি বিশ্বও। 

বৈশ্বিক টেলিকম, ডেটা সেন্টার এবং ডিজিটাল পরিকাঠামো শিল্পের সংবাদ সংক্রান্ত ওয়েবসাইট ক্যাপাসিটি গ্লোবাল জানিয়েছে, লোহিত সাগরের মধ্য দিয়ে সতেরোটি 'সাবমেরিন কেবল' গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রিয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে যায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। যুদ্ধে ইরানে মৃতের তিন হাজার ছাড়িয়েছে। রাশিয়া, চিন, স্পেন, ভারত-সহ একাধিক দেশ শান্তিপ্রস্তাব দিলেও কোনও পক্ষই যুদ্ধ থেকে সরতে রাজি নয়। 

আমেরিকা কিংবা ইজরায়েলের মতো সামিরক শক্তি না থাকতে পারে, কিন্তু কৌশলে কম যায় না ইরান। বৃহস্পতিবার কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছে তারা। ইরানের হামলায় ওই ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও স্পষ্ট নয়। আপাতত হতাহতের খবর নেই। এদিকে কাতারে গ্যাসের ঘাঁটিতে হামলা চালানোর পরে নতুন করে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, কাতারে ফের হামলা চালালে ‘কঠোর পদক্ষেপ’ করবে আমেরিকা। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া তেহরান অবশ্য ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে পাত্তা দিচ্ছে না। তারা মধ্যপ্রাচ্যের একের পর এক তেল শোধনাগারগুলিতে টার্গেট করে চলেছে। যার ফল ভুগতে হবে ভারত-সহ গোটা বিশ্বকে।  

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement