অদ্যই শেষ রজনী! মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ জানিয়ে দিলেন, বৃহস্পতিবারই সবচেয়ে বড় হামলা হবে ইরানের (Iran) উপর। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধে (War) আমেরিকা জিতবে এবং নিজের শর্তে জিতবে, এমনটাই হুঙ্কার দিলেন হেগসেথ। তাহলে কি ১৯ দিন ব্যাপী যুদ্ধ থেমে যাবে বৃহস্পতিবারের হামলায়? নাকি আবারও পালটা আক্রমণ করে যুদ্ধ জিইয়ে রাখবে ইরান?
বুধবার রাতে কাতারের প্রাকৃতিক গ্যাসের বৃহত্তম ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কাতার এবং সৌদি আরবের তেল শোধনাগারগুলিকে পরপর আক্রমণ করেছে ইরানি সেনা। তার ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে বাড়ছে জ্বালানি সংকট। সেই সংকটের প্রভাব পড়েছে আমেরিকাতেও। এহেন পরিস্থিতিতে আমেরিকা বড়সড় আক্রমণ শানাতে পারে ইরানের উপর, এমনটা মনে করছিল ওয়াকিবহাল মহল। সেই অনুমানেই কার্যত সিলমোহর দিয়ে দিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব।
বৃহস্পতিবার হেগসেথ বলেন, এতদিন পর্যন্ত ইরানের সাত হাজারটি এলাকা লক্ষ্য করে আক্রমণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় হামলাটি এখনও হয়নি ইরানের উপর। বৃহস্পতিবার সেই হামলা হতে পারে বলে ইঙ্গিত করেছেন হেগসেথ। তাঁর কথায়, "আমাদের শক্তি-ক্ষমতা বাড়ছে, আর অন্যদিকে ইরান ধসে পড়ছে। ওদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম একেবারে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছি আমরা।" হেগসেথের কথায়, খার্গ দ্বীপে হামলা চালানোর পর থেকেই আমেরিকার ইরান জয় কার্যত নিশ্চিত। নিজের শর্তেই ইরান যুদ্ধ শেষ করতে চলেছে ওয়াশিংটন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মাটিতে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তছনছ হয়ে যায় তেহরান-সহ ইরানের একাধিক অঞ্চল। হামলায় মৃত্যু হয় আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর। জবাবে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমেরিকার একাধিক সেনাঘাঁটি ও ইজরায়েলে হামলা চালাচ্ছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন, ওমান, জর্ডন, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, সিরিয়া, তুরস্কের উপর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গত ১৯ দিন ধরে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে মধ্যপ্রাচ্য। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হানায় কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাতেও পিছু হটছে না ইরান। সেকারণেই এবার বড়সড় হামলা চালাতে চাইছে আমেরিকা?
