হাঙ্গেরিতে পালাবদল। সাধারণ নির্বাচনে (Hungary Election) পরাজয় হল ইউরোপে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মিত্র বলে পরিচিত দক্ষিণপন্থী রাজনীতিবিদ হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর ওরবানের। ইরান যুদ্ধে এখনও প্রত্যাশিত ফল পাননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। মাথা নত করেনি তেহরান। তার মধ্যেই ট্রাম্প যে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রবক্তা, ওরবানের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের অবসানে তা ধাক্কা খেল বলে মত আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। অন্যদিকে, নির্বাচনে জয়ী তিসজা পার্টির নেতা পিটার ম্যাগারকে (Peter Magyar) শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এই নির্বাচন নিয়ে গভীর আগ্রহ ছিল দুনিয়াব্যাপী। ইতিমধ্যে হার মেনে নিয়েছেন ওরবান। বিদায় ভাষণে বলেছেন, দেশ চালানোর জন্য মানুষের রায় তাঁর দলের অনুকূলে নেই। যদিও তাঁর আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা করেছেন ওরবান। বলেছেন, হাল ছাড়ছি না আমরা। নেভার, নেভার, নেভার। ভোটের ফলে হাঙ্গেরিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকার গড়ছেন ওরবানেরই প্রাক্তন সহযোগী তথা বিরোধী তিসজা পার্টির নেতা পিটার ম্যাগার। ভোটগণনা প্রায় শেষের পথে। তিসজা পার্টি ১৯৯ আসনের পার্লামেন্টে ১৩৮টিতে জিতে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৫৩.৬ শতাংশ। ওরবানের দল মাত্র ৫৫টি আসন পেয়েছে। প্রাপ্ত ভোটের হার ৩৭.৯ শতাংশ।
ভোটের ফলে হাঙ্গেরিতে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে সরকার গড়ছেন ওরবানেরই প্রাক্তন সহযোগী তথা বিরোধী তিসজা পার্টির নেতা পিটার ম্যাগার।
দানিয়ুব নদীর তীরে দেশের পতাকা নিয়ে জড়ো হন দলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত ম্যাগারের সমর্থকরা। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটাররা হাঙ্গেরিকে মুক্ত করে তা ফিরে পেয়েছেন। নির্বাচনী জয়কে ‘মিরাকল’, অভাবনীয় আখ্যা দিয়ে দেশকে ‘সঠিক রাস্তায় ফেরাতে’ গণতান্ত্রিক নজরদারি, ভারসাম্য পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। বলেন, হাঙ্গেরির জনগণ ইউরোপকে ‘হঁ্যা’ বলেছেন। দেশে গণতন্ত্রের শাসনের গ্যারান্টি দেন ম্যাগার। হাঙ্গেরির এই ভোটে কড়া নজর রাখছিল ওয়াশিংটন, মস্কো উভয়েই। দুপক্ষেরই সমর্থন ছিল ওরবানের প্রতি। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স তো ভোটপ্রচারের মধ্যেই তাঁকে সমর্থন জানাতে বুদাপেস্ট পর্যন্ত গিয়েছিলেন। ভোটজয়ের পর ইউরোপের নানা দেশ থেকে শুভেচ্ছাবার্তা আসছে। ফ্রান্স, জার্মানি ‘শক্তিশালী ইউরোপ’ গড়ার লক্ষ্যে একসঙ্গে চলার ডাক দিয়েছে ম্যাগারকে। এদিকে ম্যাগারকে জয়ের শুভেচ্ছা, অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “নির্বাচনে জয়ের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন শ্রী ম্যাগার এবং তিসজা পার্টিকে। ভারত এবং হাঙ্গেরি দৃঢ় বন্ধুত্ব, সমমূল্যবোধ এবং দীর্ঘকালীন পারস্পরিক মর্যাদার দ্বারা আবদ্ধ। আমি আগ্রহের সঙ্গে ম্যাগারের সঙ্গে কাজ করার জন্য অপেক্ষা করছি, যাতে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভারত-ইইউ কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় দুই অঞ্চলে একই ধরনের সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য।'
