নারীশক্তিতেই আস্থা। অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়লেন সুজান কোয়েল। প্রথম মহিলা হিসাবে কোনও দেশের সেনাপ্রধানের পদে বসলেন তিনি। ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার সেনাপ্রধানের পদে বসলেন কোনও মহিলা। সুজানের নিয়োগকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে অভিহিত করেছেন অজি প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে সুজানের নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ডোনাল্ড ট্রাম্পের চোখে চোখ রেখে কি লড়তে পারবেন নতুন অজি সেনাপ্রধান?
ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে অস্ট্রেলিয়াকে পাশে চেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই 'অনুরোধ' রাখেননি অজি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। আসলে যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে রেখেছিল ইরান। সেই অবরোধ প্রত্যাহার করতে বেশ কিছু দেশের নৌসেনার সাহায্য চেয়েছিলেন ট্রাম্প। তার মধ্যে ছিল অস্ট্রেলিয়াও। কিন্তু ট্রাম্পের সেই ডাকে কোনও দেশই সাড়া দেয়নি। তাতে যথেষ্ট ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন ট্রাম্প। বিশ্ব রাজনীতিতে টালমাটাল অবস্থার মধ্যেই নতুন সেনাপ্রধান পেল অস্ট্রেলিয়া।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধের আবহে অজি সেনার ভূমিকাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীদিনে ট্রাম্পর চাপের মধ্যে কি ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে অজি সেনা? কঠিন সিদ্ধান্তের ভার পড়বে সুজানের কাঁধে।
১৯৮৭ সালে অজি সেনাবাহিনীতে কাজ শুরু করেন সুজান। সেনা অফিসার হিসাবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলেছেন। এবার দেশের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে বসেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার তিন বাহিনীর প্রধান হিসাবে আজ পর্যন্ত কোনও মহিলাকে নিয়োগ করা হয়নি। ইতিহাস তৈরি হয়েছে অজিভূমে। জানা গিয়েছে, আগামী জুলাই মাস থেকে নতুন দায়িত্ব নেবেন সুজান। অস্ট্রেলিয়ার চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে নৌবাহিনীর বর্তমান প্রধান মার্ক হ্যামন্ডকে।
প্রথম মহিলা সেনাপ্রধান নিয়োগের ঘোষণা করে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, সেনায় মহিলাদের সংখ্যা আরও বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমানে অজি বাহিনীতে মহিলার সংখ্যা ২১ শতাংশের কিছু বেশি। আগামী চার বছরের মধ্যে এই সংখ্যাটা ২৫ শতাংশে নিয়ে যেতে চাইছে অজি প্রশাসন। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যুদ্ধের আবহে অজি সেনার ভূমিকাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। আগামীদিনে ট্রাম্পর চাপের মধ্যে কি ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে অজি সেনা? কঠিন সিদ্ধান্তের ভার পড়বে সুজানের কাঁধে।
