রুশ ইউক্রেন যুদ্ধের আঁচ এসে পড়ল প্রতিবেশী দেশেও। যা কার্যত উসকে দিল তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগুন। ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়ল রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র। এই ঘটনা সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ন্যাটো দেশগুলির তরফে পোল্যান্ডের মোতায়েন করা হয়েছে এফ-১৬ ফাইটার জেট। নড়েচড়ে বসেছে ইউরোপের দেশগুলি।
জানা যাচ্ছে, সম্প্রতি পূর্ব পোল্যান্ডের তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামে আছড়ে পড়ে একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ঘটনায় হতাহতের কোনও ঘটনা না ঘটলেও বিরাট গর্ত তৈরি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, রাতভর ইউক্রেনে রাশিয়ার তরফে যে হামলা চালানো হয় তারই একটি কোনওভাবে ঢুকে পড়ে পোল্যান্ডে। তবে বিষয়টিকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না পোল্যান্ড ও ন্যাটো গোষ্ঠী। ঘটনার পর থেকেই ন্যাটো ও পোল্যান্ডকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত হওয়ার পর ন্যাটোর সদস্য দেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান মোতায়েন করেছে পোল্যান্ডে। শুরু হয়ে গিয়েছে যুদ্ধের প্রস্তুতি।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং জানান প্রাথমিক তদন্তে সবকিছুই রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে।
ঘটনার পরই পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এবং জানান প্রাথমিক তদন্তে সবকিছুই রুশ ক্ষেপণাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করছে। এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'পোল্যান্ড ও ন্যাটো নিজেদের আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে সক্রিয় করেছে। রাশিয়া যা করেছে তা অত্যন্ত বেপরোয়া পদক্ষেপ।' এই ঘটনাকে যুদ্ধের উসকানি বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনা ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো আশঙ্কা করছে, চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ ধীরে ধীরে তাদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে রাশিয়ার তরফে ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা এই প্রথমবার নয়, এর আগে গত সোমবার রোমানিয়ার আকাশসীমাতেও ঢুকে পড়েছিল ৩টি রুশ ড্রোন। যার জেরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল রোমানিয়া। ফের এই ঘটনায় বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আসলে পরিকল্পিতভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়ে রাশিয়া ন্যাটোর তৎপরতার বোঝার চেষ্টা করছে।
