ইউক্রেনে (Ukraine) পারমাণু বোমা বহনে সক্ষম 'ওরেশনিক' ক্ষেপণাস্ত্র (Oreshnik Missile) ছুড়েছে রাশিয়া (Russia)। অভিযোগ করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রবিবার সেকথা স্বীকার করল মস্কো। 'ওরেশনিক'-এর হামলায় নিমেষে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ইউক্রেনের একটি জনপদ। যদিও লাগাতার যুদ্ধের জেরে অঞ্চলটিতে বেশি লোক না থাকায় মৃত্যু হয় ৪ জনের। আহত হন অন্তত ১২ জন।
ওই হামলায় রাজধানী কিয়েভ ও মধ্যাঞ্চল-সহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অংশ লক্ষ্য করে শত শত ড্রোনের পাশাপাশি একঝাঁক ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য, রাশিয়ার ভূখণ্ডের অভ্যন্তরে বেসামরিক অবকাঠামোর উপর ইউক্রেন হামলা চালিয়েছিল। এর জবাবেই ধারাবাহিক গোলাবর্ষণ করা হয়। ওই অপারেশনে পরমাণু বোমা বহনকারী ব্যালেস্টিক মিসাইল 'ওরেশনিক'-এর পাশাপাশি 'ইস্কান্দার', 'কিনঝাল' এবং 'সিরকন' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
ইউক্রেন প্রশাসন, এক রাতে ৫৫টি মিসাইল এবং শতাধিক ড্রোন ছোড়া হয়। অধিকাংশ হামলা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে রুখে দেওয়া গিয়েছে। এর পরেও বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন আছড়ে পড়েছে জেলেনস্কির দেশে। তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কিয়েভের মেয়র জানান, রুশ হামলায় রাজধানীতে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের, আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশের অন্যত্র। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন।
এই হামলার পরেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম হাইপারসনিক মিসাইল ছুড়েছে রাশিয়া। এবার সেকথা স্বীকার করে নিল রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। জেলেনস্কি আরও অভিযোগ করেছেন, বেছে বেছে বেসামরিক এলাকায় নিরীহ সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালানো হয়েছে। টেলিগ্রাম পোস্টে তিনি আরও জানান, জল সরবরাহ ব্যবস্থা, একটি বাজার, সাধারণ মানুষের একাধিক বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনে পরমাণু বোমা বহনে সক্ষম শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টিকে ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন। ইউ-র তরফে কাজা কাল্লাসের বক্তব্য, ইউক্রেনের মাটিতে আতঙ্ক বাড়ানোর চেষ্টা করছে মস্কো। ইচ্ছাকৃত সাধারণ মানুষকে হত্যার চেষ্ঠা মানা যায় না।
