shono
Advertisement
Russia

তেলের খনিতে বসেও নেই পেট্রল! যুদ্ধ আবহে ভারত থেকে রেকর্ড জ্বালানি আমদানি রাশিয়ার

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে গোটা বিশ্ব থেকে রাশিয়া যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করেছে তার ৭০ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। রাশিয়ার পাঠানো ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার পেট্রলের বাজার মূল্য ছিল ৭.৮ কোটি ইউরো।
Published By: Amit Kumar DasPosted: 05:39 PM Sep 13, 2026Updated: 06:23 PM Sep 13, 2026

তেলের খনিতে বসেও নিজেদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে রাশিয়া। ইউক্রেনের তরফে পরপর হামলায় ধ্বংস হয়েছে রুশ তেল শোধনাগারগুলি। ফলে তেল উত্তোলন হলেও শোধনের অভাবে তা ব্যবহারের অনুপযোগী। গুরুতর এই পরিস্থিতিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ভরসা এখন ভারত। রিপোর্ট বলছে, যে ভারত রাশিয়ার থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে, সেই ভারত থেকেই এখন পেট্রল কিনছে মস্কো। গত আগস্ট মাসে রাশিয়া ভারত থেকে আমদানি করেছে ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার পেট্রল।

Advertisement

'সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার' (CREA)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসে গোটা বিশ্ব থেকে রাশিয়া যে পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করেছে তার ৭০ শতাংশ এসেছে ভারত থেকে। রাশিয়ার পাঠানো ১ লক্ষ ২০ হাজার লিটার পেট্রলের বাজার মূল্য ছিল ৭.৮ কোটি ইউরো। রিপোর্ট আরও বলা হয়েছে, জুলাই মাসে রাশিয়া যত পরিমান পেট্রল আমদানি করেছিল আগস্ট মাসে তা ৭ গুণ বেড়েছে। এবং গত বছরের তুলনায় এই আমদানির পরিমাণ ৩ গুণ বেশি। আরও দাবি করা হয়েছে, রাশিয়াতে যে পেট্রোল ভারত পাঠিয়েছে তার পুরোটাই গুজরাটের ভাদিনার শোধনাগারে উৎপাদিত, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে নিষিদ্ধ নায়ারা এনার্জি কর্তৃক রাশিয়ার সংস্থা রোজনেফটের কাছে বিক্রি করা হয়েছিল।

ভারতের নায়ারা এনার্জিতে রোজনেফটের ৪৯.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সিআরইএ-র মতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ভাদিনার শোধনাগারে ব্যবহৃত সমস্ত অপরিশোধিত তেল এসেছে রাশিয়া থেকে।

জানা যাচ্ছে, ভারতের নায়ারা এনার্জিতে রোজনেফটের ৪৯.১৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। সিআরইএ-র মতে, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ভাদিনার শোধনাগারে ব্যবহৃত সমস্ত অপরিশোধিত তেল এসেছে রাশিয়া থেকে। যেখানে ২০২৫ সালে এই হার ছিল ৮১ শতাংশ। এর অর্থ হল রাশিয়া নিজেদের শেয়ার থাকা নায়ারা এনার্জিতে অপরিশোধিত তেল পাঠাচ্ছে। সেখান থেকে পেট্রল উৎপাদন করে রাশিয়ায় আমদানি করছে। এর জেরে তাদের খরচও কম পড়ছে।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভাদিনার থেকে রাশিয়ায় পাঠানো পেট্রলের প্রতিটি চালান মিশরের উপকূলের কাছে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হতো। এরপর রাশিয়ার বেলোয়ে মোর বন্দরে তা খালি করা হতো। সিআরইএ জানিয়েছে, এই কার্যকলাপে যুক্ত সমস্ত ট্যাঙ্কার আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ ছিল। উল্লেখ্য, ৪ বছর ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ চলছে রাশিয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার উপর হামলার ঝাঁজ আরও বাড়িয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিকে লাগাতার নিশানা করছে ইউক্রেনের ড্রোন। যার জেরে জ্বালানি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ভারত থেকে পেট্রল কিনতে হচ্ছে রাশিয়াকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement