তেলবাহী রাশিয়ান জাহাজটি যাচ্ছিল চিনের পথে। যদিও দক্ষিণ চিন সাগরে পৌঁছেই গন্তব্য বদলে ফেলে জলযানটি। এই মুহূর্তে সেটি ভারতের পথে রওনা দিয়েছে। মস্কোর থেকে দিল্লি জ্বালানি কেনার পরিমান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরেই ভারতমুখো হল রুশ জাহাজ? উল্লেখ্য, যুদ্ধের বাজারে ভারতকে রাশিয়া থেকে তেল (Russia Oil India) কেনার জন্য ‘৩০ দিনের ছাড়’ দিয়েছিল আমেরিকা। মনে করা হচ্ছে সেই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে দিল্লি।
সূত্রের খবর, রুশ তেলবাহী জাহাজটির নাম 'অ্যাকোয়া টাইটান'। গত জানুয়ারি মাসে বাল্টিক সাগরের বন্দরে তেল মজুত করা হয় সেটিতে। সব ঠিক থাকলে আগামী ২১ মার্চ ম্যাঙ্গালোর বন্দরে পৌঁছবে সেটি। যদিও ওই তেলবাহী জাহাজটির চিনের রিজাও বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জলসীমায় পৌঁছে সেটি দিক বদল করে। মনে করা হচ্ছে, দিল্লি-মস্কো কথার পরেই ভারতের অভিমুখে রওনা দিয়েছে জাহাজটি।
বলা বাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের মধ্যে বাড়ন্ত জ্বালানি সংকটে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। মার্কিন ছাড় মিলতেই ভারতের জ্বালানি সংস্থাগুলি প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল রাশিয়ান তেল কিনেছে। ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ ঘাটতির মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল কেনায় ৩০ দিনের ছাড় ঘোষণা করলেও ভারত জানিয়েছিল--- যেখান থেকে তেল কেনায় সাশ্রয় হবে, সেখান থেকেই তেল কিনবে তারা। এর জন্য কোনও দেশের ছাড় লাগবে না। এক বিবৃতিতে নয়াদিল্লি জানায়, হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও ভারতে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত রয়েছে। অপরিশোধিত তেল আমদানির জন্য বিকল্প দেশের সংখ্যা ২৭ থেকে বৃদ্ধি করে ৪০ করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন বিকল্প আমদানিপথ খুলে গিয়েছে ভারতের কাছে। বিবৃতিতে এ-ও বলা হয়েছে, যেখানে সবচেয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়া যায়, দেশের স্বার্থে সেখান থেকেই তেল কেনা হয়।
