ফের সংঘর্ষ পাকিস্তানে। এবারও সংঘর্ষের কেন্দ্রে খাইবার প্রদেশ। জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দেশের অশান্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বৃহস্পতিবার রাতে দু'বার হামলা চালিয়েছে। দুটি পৃথক গোয়েন্দা অভিযানে ১৩ জন সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে ১৩ এবং ১৪ জানুয়ারীর মধ্যরাতে খাইবার পাখতুনখোয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, "খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে দুটি পৃথক সংঘর্ষে ফিতনা আল খাওয়ারিজের তেরোজন খাওয়ারিজ নিহত হয়েছে।" পাকিস্তানি প্রশাসন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গিদের জন্য এই শব্দটি ব্যবহার করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বান্নু জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালায় নিরাপত্তাবাহিনী। এই অভিযানে আটজন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। কুর্রাম জেলায় দ্বিতীয় অভিযানে আরও পাঁচজন সন্ত্রাসবাদীকে খতম করা হয়েছে।
এই সপ্তাহের শুরুতেই বালোচিস্তানের কালাত জেলায় আরেকটি অভিযান হয়। সেই অভিযানে চার জঙ্গি নিহত হয়। সামরিকভ অভিযান বাড়লেও, সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিমাণ বেড়েছে পাকিস্তানে। পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী হামলা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যুর হার আগের বছরের তুলনায় ২১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ৭৫ হাজার অভিযান চালিয়েছে শুধুমাত্র ২০২৫ সালে। এর মধ্যে ১৪ হাজারের বেশি অভিযান চালানো হয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ায়। বালোচিস্তানে হয়েছে ৫৮ হাজার অভিযান। দেশের অন্যান্য জায়গায় ১ হাজারের কিছু বেশি অভিযান চালানো হয়েছে।
পাকিস্তানজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে গত বছর। এর প্রায় ৭১ শতাংশই হয়েছে খাইবার প্রদেশে। অন্যদিকে, ২৯ শতাংশ হয়েছে বালোচিস্তানে।
গত মঙ্গলবার, খাইবার প্রদেশে আক্রমণ চালায় অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসবাদীরা। পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় এই ঘটনা ঘটে। এই জেলার সঙ্গে সীমানা রয়েছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের। অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা, মাজাং চকের কাছে গাড়ি আটকায়। সেখানেই স্থানীয় শান্তি রক্ষা কমিটির চার সদস্যকে গুলি করে হত্যা করে তারা। এই সময় পথচলতি একজন সাধারণ মানুষের গায়েও গুলি লাগে। পরবর্তীকালে, হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।
