ইরানে (Iran) সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের সরকারের পতন চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে কথা স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়েও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ইরানে গোঁড়া ধর্মীয় শাসনতন্ত্রের বিকল্প হিসাবে যাঁর কথা ভাবা হচ্ছে, সেই নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির জনসমর্থন পাওয়ার দক্ষতা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দেশে তাঁর কেমন গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা নিয়ে সংশয়ে তিনি।
খামেনেইয়ের সরকার উৎখাতের দাবিতে পথে নেমেছেন ইরানের লাখ লাখ মানুষ। সেই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছেন আমেরিকায় নির্বাসনে থাকা যুবরাজ পাহলভি। বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানে ফিরে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার আগে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করতে পারেন বলেও জল্পনা ছিল। কিন্তু তা শেষ পর্যন্ত হয়নি। তবে ট্রাম্পের দূত তথা মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন। যদিও সেই বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, তা প্রকাশ্যে আসেনি। ঘটনাচক্রে, সেই বৈঠকের পরেই পাহলভির নেতৃত্বদানের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, "উনি ভালো মানুষ। কিন্তু নিজের দেশে ওঁর কী ভূমিকা হবে, তা জানি না।" আমেরিকা কি পাহলভিকে সমর্থন জানাবে? এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমরা এখনও সে সব নিয়ে কিছু ভাবিনি। অনেকগুলি বিষয় পর্যালোচনা করে দেখছি আমরা।"
১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের সময়ে ইরান ছেড়ে পালিয়েছিলেন তৎকালীন শাসক মহম্মদ রেজা পাহলভি। তার আগে থেকেই দেশের বাইরে থাকেন তাঁর পুত্র পাহলভি। সম্প্রতি ইরানে গণবিক্ষোভের আবহে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, খামেনেইয়ের সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের উপর হামলা চালায়, তা হলে আমেরিকা চুপ থাকবে না। প্রয়োজনে সামরিক অভিযানও হবে। ট্রাম্পের এই হুমকির পর থেকেই পাহলভির ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের জল্পনা তৈরি হয়। ইরান অবশ্য আমেরিকাকেও পালটা হুঁশিয়ারি দেয়। পাশাপাশিই বিক্ষোভকারীদের উপর দমনপীড়ন চলতে থাকে। সাম্প্রতিক আন্দোলন-বিক্ষোভে সেখানে প্রায় ৩,৪০০ জনের মৃত্যুও হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও আমেরিকাকে যে পাহলভিকে বিকল্প শাসক হিসাবে ভাবতে পারছে না, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, "আমি জানি না ইরান তাঁর নেতৃত্ব মেনে নেবে কি না। যদি তাঁরা (ইরানের সাধারণ মানুষ) মেনে নেন, তবে আমার তাতে কোনও আপত্তি নেই।"
