অপারেশন 'সিংহগর্জনে' থেকে থেকে কেঁপে উঠছে ইরান (Iran)। ইজরায়েল (Israel) ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে ধীরে ধীরে সামনে আসছে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি। আগেই সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, ইজরায়েল-আমেরিকার হামলায় মৃত্যু হয়েছে ইরানি সেনার বেশ কয়েক জন কমান্ডার এবং আধিকারিকের। এবার জানা গেল, নিহত হয়েছেন খামেনেইর শীর্ষ কমান্ডার মহম্মদ পাকপৌর। এছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দক্ষিণ ইরানের একটি স্কুলে পাঁচ জন নাবালিকা পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আবুধাবি ও দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াধে পালটা হামলা চালিয়েছে ইরান। দোহায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের ঘনিষ্টজন বলে পরিচিত ছিলেন ইসলামিক রেভলুশনারি গার্ড কপের (আইআরজিসি) কমান্ডার মহম্মদ পাকপৌর। গত ২৬০ দিন ধরে তিনি কমান্ডার পদে ছিলেন। গত বছর তাঁকে মেজর জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত মাসেই ইজরায়েল ও আমেরিকাকে মহম্মদ পাকপৌর বলেন, হুমকিতে দিয়ে কাজ হবে না। শত্রুকে প্রতিহত করতে ইরান তৈরি। ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সেই কমান্ডারের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে ইজরায়েলি সেনা।
নিহত হয়েছেন খামেনেইর শীর্ষ কমান্ডার মহম্মদ পাকপৌর।
উল্লেখ্য, এদিন সকালে তেহরানে খামেনেইর দপ্তরে হামলা চালায় আমেরিকা-ইজরায়েল। যার ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ওই ভবনটির অনেকাংশ। যদিও ৮৬ বছরের খামেনেইকে আগেভাগেই তেহরান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এবং বর্তমানে তিনি শহর থেকে দূরে ইরানের কোন গোপন বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর। তবে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে মৃত্যু হয়েছে ইরানি সেনার বেশ কয়েক জন কমান্ডার এবং আধিকারিকের। তাঁদের অন্যতম মহম্মদ পাকপৌর।
মধ্য়প্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘনাতেই কুয়েতের বেসক্যাম্প থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিয়েছিল আমেরিকা। যুদ্ধ বাঁধতেই ঠিক সেখানেই হামলা চালাল ইরান। জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর আবুধাবি ও দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রিয়াধে হামলা হয়েছে। ইরানি হামলায় দোয়ায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এদিকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের আনাগোনায় বেসামরিক বিমান চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় একে একে আকাশসীমা বন্ধ করছে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলি। বিপদ এড়াতে কাতার এয়ারওয়েস ইতিমধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ করেছে। যুদ্ধের জেরে আকাশপথ বন্ধ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে পরিষেবা স্থগিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগোর ভারতীয় বিমানসংস্থাগুলিও।
