ইরানের আকাশে যুদ্ধের সিঁদুরে মেঘ। দফায় দফায় হুঁশিয়ারির পর এবার তেহরানের মাটিতে হামলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করে দিল আমেরিকা! সম্প্রতি পেন্টাগনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের গোপন বৈঠক সেই জল্পনাই নতুন করে উসকে দিল। সেই বৈঠকের গোপন তথ্য প্রকাশ্যে না এলেও, বলার অপেক্ষা রাখে না সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দু ইরান।
সংবাদ সংস্থা রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত শুক্রবার পেন্টাগনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন ও ইজরায়েলের সেনার 'চিফ অফ স্টাফ' আয়ল জমির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের শীর্ষ সেনাকর্তারা। শুধু তাই নয়, জমির ওয়াশিংটন থেকে ফেরার পর দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক সেরেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, তেল আভিভে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ, জমির, মোসাদ প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
গত শুক্রবার পেন্টাগনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন জেনারেল ড্যান কেইন ও ইজরায়েলের সেনার 'চিফ অফ স্টাফ' আয়ল জমির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের শীর্ষ সেনাকর্তারা।
ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য পরিনতির প্রস্তুতি পর্যালোচনা করতেই জমিরের সঙ্গে এই বৈঠক করা হয়। সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি। একদিনে পেন্টাগনে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সেনাকর্তাদের বৈঠক এবং ইজরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি দেখে কূটনৈতিক মহলের অনুমান, ইরানের বুকে হামলা চালানোর যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেও মনে করা হচ্ছিল, ইরানে যুদ্ধের মেঘ কেটে গিয়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনে নামা আটশোর বেশি বিদ্রোহীর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেও তা রদ করেছিল তেহরান। এরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছিল এবার বোধহয় চূড়ান্ত পদক্ষেপের থেকে সরে আসবে আমেরিকা। তবে সে ভুল ভেঙে পশ্চিম এশিয়ায় বিরাট নৌবহর পাঠিয়েছে আমেরিকা। ৩ রণতরীর পাশাপাশি বিপুল সেনা ও এয়ারক্রাফট পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানও হরমুজ প্রণালীতে পাঁচদিনব্যাপী একটি সামরিক মহড়া শুরুর পরিকল্পনা করছে। রবিবার ইরানের এক সরকারি টিভি চ্যানেল খামেনেইয়ের বার্তা তুলে ধরা হয়। সেখানে তিনি জানিয়েছে, “আমেরিকা যদি যুদ্ধ শুরু করে তবে তার ভয়াবহ পরিনতির কথাও ওদের মাথায় রাখা উচিত। যদি সত্যি যুদ্ধ শুরু হয় তবে সে যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হবে।”
