ওমানে ভারতীয় নাবিকদের তৃতীয় জাহাজে হামলারও দায় স্বীকার করল আমেরিকা। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে ওই জলপথে আমেরিকা যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, তা লঙ্ঘন করেছিল জাহাজটি। সেই কারণেই বাণিজ্যতরীটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। একইসঙ্গে হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা।
একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওমানের শিনাস বন্দরের কাছে এমটি জলবীর নামক জাহাজটি হামলার শিকার হয়। এটি গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী। বাণিজ্যতরীটিতে মোট ২০ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন বলে সূত্রের খবর। কিন্তু বর্তমানে তাঁরা কেমন রয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। এই হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দায় স্বীকার করল আমেরিকা। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্ট কম) তাঁদের এক্স হ্যান্ডলে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে জলপথে যে অবরোধ আরোপ করেছে আমেরিকা, তা লঙ্ঘন করে জাহাজটি। সেই কারণেই ১০ জুন (বুধবার) রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কারটিকে অচল করে দেয় মার্কিন বাহিনী সেনা।' বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, আমাদের নির্দেশ বারবার অমান্য করায় একটি মার্কিন বিমান জাহাজটির ইঞ্জিন রুমে দু'টি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।' ইতিমধ্যেই হামলার শিকার হওয়া ট্যাঙ্কারটির একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মাঝ ,সমুদ্রেই দাউ দাউ করে জ্বলছে জাহাজটি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বলি হচ্ছে ভারতীয়রাও। এর আগে ওমান উপসাগরে বাণিজ্যতরীতে হামলায় ৩ ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভারতীয় নাবিকদের দ্বারা পরিচালিত বাণিজ্যতরীতে হামলার ঘটনাকে বুধবার তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে এই ধরনের হামলার ঘটনাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “গত কয়েকদিনে পশ্চিম এশিয়ায় ভারতীয় নাবিকদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। আমাদের নাবিকদের কল্যাণ ও মঙ্গলকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিই আমরা।”
রণধীর আরও বলেন, “গতকালই ওমান উপকূলের অদূরে একটি জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা করেছিলাম আমরা, যাতে দুর্ভাগ্যবশত তিনজন ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। জোরালো প্রতিবাদ জানানোর জন্য আমরা ভারতে নিযুক্ত আমেরিকার দূতকে তলব করেছিলাম। এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের উপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।” যোগ করেন, "আমরা বারবার আলোচনা এবং কূটনীতিরর উপর জোর দিয়েছি। যাতে এই অঞ্চলে (মধ্যপ্রাচ্যে) দ্রুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায়।”
