বারুদের গন্ধ পেরিয়ে অবশেষে শান্তি ফিরতে চলেছে মধ্যপ্রাচ্যে? খুলতে চলেছে বিশ্বের তৈল ধমনী হরমুজ? শনিবার সেই ইঙ্গিত দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প। এদিন সোশাল মিডিয়া পোস্টে ট্রাম্প জানালেন, 'রবিবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই করতে চলেছে আমেরিকা। যার জেরে বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী, যা এতদিন ধরে ইরান বন্ধ করে রেখেছে তা এবার খুলে যাবে।'
সোশাল মিডিয়ায় ২০১৫ সালে ওবামা আমলে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প লেখেন, 'ইরানের সঙ্গে বারাক ওবামার জেসিপিওএ চুক্তিটিতে পারমাণবিক অস্ত্রের বিষয়টি অত্যন্ত শিথিল ছিল। ইরান ছয় বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত এবং এতদিনে তা ব্যবহারও করে ফেলত। ইরানের সঙ্গে আমার চুক্তিটি এর সম্পূর্ণ বিপরীত। পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে এক বিরাট প্রাচীর থাকবে এখানে। প্রকৃতপক্ষে, ওরা আর পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, এবং তারা তা পাবেও না। কিনেও না, তৈরি করেও না, বা অন্য কোনো উপায়েও না।'
ট্রাম্প জানালেন, 'রবিবার ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই করতে চলেছে আমেরিকা। যার জেরে বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী, যা এতদিন ধরে ইরান বন্ধ করে রেখেছে তা এবার খুলে যাবে।'
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট পারমাণবিক বোমা তৈরির উপাদান পরবর্তী পর্যায়ে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, 'সঠিক সময়ে, যখন সবকিছু শান্ত হয়ে যাবে, আমরা সেখানে যাব এবং ওই বিশাল গ্রানাইট পাহাড়ের নিচে চাপা পড়ে থাকা পারমাণবিক উপাদান উদ্ধার করব। আমাদের বি-২ বোমারু বিমান এবং তাদের তার পাইলটদের ধন্যবাদ, আমরা তা বিস্ফোরণে গুঁড়িয়ে দেব এবং ধ্বংস করে দেব। সেটা ইরানেই হোক বা আমেরিকাতেই হোক।'
ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির ফলে হরমুজ খুলে যাওয়ার যে ইঙ্গিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট দিয়েছেন তা ভারত-সহ গোটা বিশ্বের জন্য নিশ্চিতভাবে বড় স্বস্তির। বিশ্বের জ্বালানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের মাঝামাঝি অবস্থিত এই সংকীর্ণ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এটি বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে সরবরাহ হওয়া মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক পঞ্চমাংশ। তেলের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস – বিশেষ করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছয়। শুধু তা-ই নয়, ভারত যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে, তার অধিকাংশই আসে হরমুজ দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধের জেরে বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়াতে হরমুজ রুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। তেহরানকে পালটা চাপ দিতে হরমুজ ঘিরে রেখেছে একাধিক মার্কিন রণতরীও। এর জেরে গোটা বিশ্বের জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এবার সেই সংকট কাটতে চলেছে বলেই মনে করছে বিশ্ব।
