shono
Advertisement

Breaking News

Football

ফুটবল, প্রেম কিংবা প্রতিবাদ, রাত জেগে বাঙালি...

কখনও ফুটবল, কখনও প্রতিবাদ, কখনও প্রেম, কখনও নিঃসঙ্গতা- রাত জেগে বাঙালি বারবার খুঁজে পেয়েছে নিজের আবেগ ও চেতনাকে।
Published By: Kishore GhoshPosted: 06:32 PM Jun 14, 2026Updated: 06:32 PM Jun 14, 2026

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ঠিক রাত ১২টার সময় স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু বলেছিলেন বটে, 'অ্যাট দ্য স্ট্রোক অফ দ্য মিডনাইট আওয়ার, হোয়েন দ্য ওয়ার্ল্ড স্লিপস, ইন্ডিয়া উইল আওয়েক টু লাইফ অ্যান্ড ফ্রিডম'- তখন কিন্তু আক্ষরিক অর্থে সারা পৃথিবী নিদ্রিত ছিল না। আমাদের যখন মধ্যরাত, আমেরিকায় তখন মধ্যদিন, বিলেতে প্রায় সন্ধে। ভৌগোলিক কারণে সময়ের এই তারতম্য। সেই কারণেই, আমেরিকায় দিনের আলোয় ঘটা বিশ্বকাপ ফুটবল বাঙালি দেখছে রাত জেগে।

Advertisement

এই তো শুরু হল বাঙালির রাত জাগা, উত্তেজনা, শিহরন, হিরো পুজো। চলবে বেশ কিছু দিন। তবে রাত জাগতে এবং অফিসে ঝিমতে বাঙালির জুড়ি নেই। ভালবাসার মানুষকে গান শোনানোর জন্যও বাঙালি অক্লেশে পারে জেগে থাকতে 'তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ'- এই কথা স্বয়ং রবীন্দ্রনাথের। তিনি আক্ষরিক অর্থে এই কাজটি করেও ছিলেন। শান্তিনিকেতনে তাঁর অতিথি সাহিত্যিক বনফুলকে অনেক রাত্রে ঘুম থেকে তুলে গেয়ে শুনিয়েছিলেন 'ঘরেতে ভ্রমর এল গুনগুনিয়ে'। রাত জাগতে পারতেন বটে রবীন্দ্রনাথ। রাতের পর রাত জেগে আঁধার আকাশে সূর্যের প্রথম আলোকরেখা না দেখলে তাঁর গানের এই অমোঘ পঙক্তি তিনি কল্পনায় পেতেন না-'নিকষেতে উঠল ফুটে সোনার রেখাখানি'।

আরও এক রাত জাগার প্রসঙ্গে যাওয়া যায় হয়তো, যে রাত জাগা তুল্য নয়। প্রতিতুল্য। কেননা, এই রাত জাগরণ ব্যক্তিগত বেদনার, বিচ্ছেদ ও বিরহের।

তবে এ তো গেল নির্জন, নিঃসঙ্গ, নিভৃতিনিহিত রাত্রিজাগরণ। কিন্তু আমরা সম্প্রতি দেখেছি বাঙালির বিবেকতাড়িত, বেদনাপ্লাবিত, মশালদীপ্ত রাতদখল। এই রাতজাগরণ প্রতিবাদের। এই রজনী জাগৃতি অঙ্গীকারের। বাঙালির এই দলবন্ধ চেতনা আলোকিত রাত্রিযাপন বাঙালির কালীপুজোর মহানিশার থেকে আবেদনে, ব্যাপ্তিতে কম পবিত্র ও পরমার্থিক নয়। বাঙালির এই রাত দখলের শক্তির কোনও শব্দ ছিল না। ছিল না কোনও ঝলক, উন্মাদনা, উল্লাস। ছিল শুধু একবন্ধ রাতদখল ও চেতনার স্রোত।

এমনই এক দুর্যোগের রাত্রির কথা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ- 'যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে'।

আরও এক রাত জাগার প্রসঙ্গে যাওয়া যায় হয়তো, যে রাত জাগা তুল্য নয়। প্রতিতুল্য। কেননা, এই রাত জাগরণ ব্যক্তিগত বেদনার, বিচ্ছেদ ও বিরহের। 'আমিও একাকী তুমিও একাকী... নিদ নাহি আঁখি পাতে'- লিখে গিয়েছেন অতুলপ্রসাদ বিচূর্ণ দাম্পত্যের অসহনীয় যন্ত্রণা থেকে। বিচ্ছেদের বেদনা থেকে ব্যক্তিগত শোক সবকিছু তীব্র হয়ে ওঠে রাতের অন্ধকারে। রাত্রিবেলা ঘুম কেড়ে নেয় যাপনের যন্ত্রণা, অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের ভীতি, ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা। এমন রাত জাগরণের থেকে ভয়ংকর বোধহয় জীবনে কিছু নেই। জীবনে এমন উৎকণ্ঠার, উদ্বেগের রাত জাগা সবার জীবনেই আসে।

এমনই এক দুর্যোগের রাত্রির কথা লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ- 'যে রাতে মোর দুয়ারগুলি ভাঙল ঝড়ে'। এমন একক নিঃসঙ্গ যন্ত্রণায় রাত জাগার কথা ভাবলেই অনেকের মনে আসবে জার্মান ভাষায় ইহুদি-চেক লেখক ফ্রানৎস কাফকাকে। তাঁর জীবনের প্রতিটি রাত হয়ে উঠেছিল দুঃস্বপ্ন। তাঁর নিজের মানস-যাতনা থেকে পালানোর পথ ছিল না।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement