ফের ওমান উপসাগরে বিপদে ভারতীয় নাবিকরা। সাগরে হঠাৎ বিকল হয়ে যায় ভারতের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যতরী। যদিও এযাত্রায় উদ্ধার করা গিয়েছে ১৪ জন ভারতীয় নাবিককেই। মার্কিন নৌসেনার সাহায্যে নির্বিঘ্নে উদ্ধারকাজের কথা জানিয়েছে ওমানের বন্দর শহর মাস্কাটের ভারতীয় দূতাবাস।
ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়া বাণিজ্যতরীটির নাম বিরাট ১। ওমানের জল সীমান্তের কাছে আচমকাই প্রযুক্তিগত ত্রুটি ধরা পড়ে সেটিতে। ভারতীয় দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ার পর নাবিক দল জাহাজটি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হন। উদ্ধারকাজ শুরুর পর তাঁদের একটি 'লাইফ-রাফটে' (আপাতকালীন ভেলা) স্থানান্তরিত করা হয়। সামাজিকমাধ্যমে এক বিবৃতিতে দূতাবাস জানিয়েছে, ওমানের বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নিকটবর্তী জাহাজগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। দূতাবাস জানিয়েছে, "জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত নাবিক ও কর্মীদের নিরাপদে একটি লাইফ-রাফটে সরানো হয়েছে। বর্তমানে ওমান কর্তৃপক্ষের তদারকিতে আশেপাশের জাহাজগুলোর সহায্যে উদ্ধারকাজ চলছে।"
প্রসঙ্গত, ক'দিন আগে ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় মৃত্যু হয়েছিল তিন ভারতীয় নাবিকের। সম্প্রতি এমটি সেলেস্টিয়াল নামের একটি বাণিজ্যতরীতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও এক ভারতীয় নাবিক নিশান্ত উরথানাথানের। তাঁর দেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে বিদেশ মন্ত্রক। সমস্ত কিছুর নেপথ্যে মারণ যুদ্ধের কারণ অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী। রবিবার জাহাজ মন্ত্রক জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে ভারতীয় পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজে ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক ১০৭ দিন ধরে ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা-ইজরায়েলের হামলার পর থেকে নাবিকদের দুঃস্বপ্নের সূত্রপাত। অভিশপ্ত রাত ফুরিয়ে এবার কি শান্তির সূর্যোদয় হবে? খুলতে চলেছে বিশ্বের ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী? শনিবার সেই ইঙ্গিতই দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে বহু প্রতিক্ষিত শান্তিচুক্তি রবিবারেই চূড়ান্ত হতে চলেছে। তার পরেই অবসান হবে মারণ যুদ্ধের। এই 'ভালো খবর' শোনার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।
