আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল গত ৭ এপ্রিল। সেই সময়ের পর থেকে সবচেয়ে তীব্র সংঘাতের ঘটনা ঘটল হরমুজে। জানা গিয়েছে, দুই পক্ষই একে অপরের উদ্দেশে গোলাগুলি বর্ষণ করেছে। হরমুজ প্রণালীর অদূরে এই সংঘাতের জন্য একে অপরকেই দুষছে তারা। এমন এক সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, যখন সংঘাত থামার প্রস্তাব বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগেই ফের গোলাবর্ষণের শব্দে কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ওয়াশিংটন উত্তেজনা বাড়াতে চায় না। তারা ইরানের হামলার প্রত্যুত্তর দিয়েছে। এদিকে ইরানের দাবি, বিমান হামলার সময় আমেরিকা অসামরিক এলাকাগুলিতেই আক্রমণ করেছে। ইরানের সেনার এক মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইরানের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে মার্কিন সেনা। এবং হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশরত দুটি জাহাজকেও লক্ষ্য করে হামলা করা হয়েছে। যদিও হোয়াইট হাউসের দাবি, হরমুজে যাতায়াতকারী যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত ইরানের সামিরক ঘাঁটিগুলিতেই তারা হামলা করেছে।
এক সময়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হল, যখন সংঘাত থামার প্রস্তাব বিবেচিত হচ্ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার আগেই ফের গোলাবর্ষণের শব্দে কাঁপল মধ্যপ্রাচ্য।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের হামলা প্রতিহত করেছে। তেহরানকে ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের উসকানি দেওয়া থেকে বিরত থাকার ব্যাপারেও সতর্ক করে দেন তিনি। তাঁর কথায়, ''ইরান যদি শিগগিরি কোনও চুক্তিতে সম্মত না হয়, আমরা আরও কঠোর হামলা চালাব।'' যুদ্ধবিরতি চলার পরও কেন এই হামলা প্রশ্ন তুলে, ট্রাম্পের দাবি, ''ওরা আমাদের সঙ্গে ছেলেখেলা করেছে।''
এদিকে ইরানের কৃত্রিম উপগ্রহ প্রকাশিত ছবি থেকে দেখা গেল মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সেনাঘাঁটিগুলিতে প্রভূত ক্ষতি হয়েছে। যে তথ্য চেপে রাখতে চেয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেই এই দাবি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শতাধিত কৃত্রিম উপগ্রহে তোলা ছবি থেকে পরিষ্কার ১৫টি সেনা ঘাঁটিতে অন্তত ২২৮টি নির্মাণের ভাঙা অংশ দেখা গিয়েছে। এটি আমেরিকার মতো প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য ক্ষতির ইঙ্গিত।
