পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরানের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করেছে আমেরিকা। এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এহেন টানাপোড়েনের মধ্যেই ইরানের উপর চাপানো তৈল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাহলে এবার কি স্বস্তি ফিরবে ভারতে? সস্তা হবে তেলের দাম?
তেহরানের উপর বহুদিন ধরেই একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে রেখেছে ওয়াশিংটন। নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল সে দেশের তেল রপ্তানির উপরও। কিন্তু সোমবার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নিল আমেরিকা। পাশাপাশি, ৬০ দিনের একটি লাইসেন্সও জারি করেছে মার্কিন অর্থ দপ্তর। ওয়াশিংটনের বিবৃতি অনুযায়ী, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোকেমিক্যাল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদন, সরবরাহ এবং বিক্রির অনুমতি দেওয়া হবে তেহরানকে।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতের উপর কী প্রভাব পড়বে? নয়াদিল্লি তার চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ অপরিশোধিত তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে চাপ পড়ে ভারতের উপর। তৈরি হয় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা। গত চার বছরে ভারতের তেল আমদানির উৎসে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ভারত মাস্কোর কাছ থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি শুরু করে। বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে রাশিয়া থেকে। রাশিয়া ছাড়াও সৌদি আরব, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী থেকে তেল আমদানি করে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে ইরান যদি আবার তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ফিরে আসে, তাহলে ভারতের জন্য এটি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহের উৎস হয়ে উঠতে পারে। এতে ভারতের তেল আমদানির উৎস আরও বৈচিত্র্যময় হবে এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশের উপর নির্ভরতা কিছুটা কমবে।
ইরানি তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে তেহরান ভারতের প্রধান তেল সরবরাহকারীদের মধ্য়ে অন্যতম ছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা জারির পর নয়াদিল্লি ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। কিন্তু এবার ভারত কি তাহলে ফের ইরান থেকে তেল কেনা শুরু করবে? সূত্রের খবর, এখনও তেহরান থেকে তেল আমদানির কথা ভাবছে না নয়াদিল্লি। কারণ, আমেরিকা ইরানকে যে ছাড় দিয়েছে তা ৬০ দিনের জন্য কার্যকর। কিন্তু তেল শোধন সংস্থাগুলি যখন কোনও দেশ থেকে তেল কেনে তখন তারা দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা চায়। ইরানের ক্ষেত্রে সেটা এখন নেই। তবে আলোচনায় অগ্রগতি হলে ইরানের অপরিশোধিত তেল ফের ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরতে পারে। তখন সেটি ভারতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।
