ভারতের মন্দির থেকে অবৈধ ভাবে সরানো হয়েছিল তিনটি ব্রোঞ্জ মূর্তি। ঘটনাচক্রে, তা-ই পৌঁছে গিয়েছিল মার্কিন মুলুকে। সেই প্রাচীন তিন মূর্তিই এবার ভারতকে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়াম ইনস্টিটিউশনের অধীনস্থ ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট। এই তিনটি মূর্তি হল 'শিব নটরাজ' (চোল যুগ, আনুমানিক ৯৯০ খ্রিস্টাব্দ),'সোমাস্কন্দ' (চোল যুগ, দ্বাদশ শতাব্দী), 'পারাভাইয়ের সঙ্গে সন্ত সুন্দরর’(বিজয়নগর যুগ, ষোড়শ শতাব্দী)।
আমেরিকার মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প সংগ্রহ নিয়ে গবেষণা চালায় ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট। তার অঙ্গ হিসাবেই এই তিনটি মূর্তি মালিকানার ইতিহাস খতিয়ে দেখা হয়। ২০২৩ সালে ফরাসি ইনস্টিটিউট অফ পন্ডিচেরির ছবির সংগ্রহ থেকে গবেষকেরা জানতে পারেন, তিনটি মূর্তি ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মন্দিরে ছিল। পরে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ এই তথ্য যাচাই করে জানায়, মূর্তিগুলি কোনও ভাবে সরানো হয়েছিল মন্দির থেকে। গবেষণায় এই তথ্য উঠে আসার পরেই সেগুলি ভারতকে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যদিও তিনটির মধ্যে 'শিব নটরাজ'-এর মূর্তিটি আপাতত আমেরিকার মিউজিয়ামেই থাকবে। ওই মিউজিয়ামে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই মিউজিয়ামেই মূর্তির সম্পূর্ণ ইতিহাস, মন্দির থেকে 'চুরি' এবং ভারতে ফেরানোর কাহিনি তুলে ধরা হবে। ভারত সরকারই এর অনুমতি দিয়েছে। মিউজিয়ামের কর্ণধার চেজ এফ রবিনসন বলেন, "ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণ ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনও বস্তু কীভাবে সংগ্রহে এল, শুধু তা নয়। বরং তার সম্পূর্ণ ইতিহাস ও গতিপথ বোঝার চেষ্টা করি আমরা।"
'শিব নটরাজ' মূর্তিটি তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার তিরুতুরাইপণ্ডি তালুকের শ্রী ভাব ঔষধেশ্বর মন্দিরে ছিল। ১৯৫৭ সালে মন্দিরে মূর্তিটির ছবি তোলা হয়েছিল। পরে এটি নিউইয়র্কের ডরিস উইনার গ্যালারি থেকে ২০০২ সালে কিনে নেয় আমেরিকার মিউজিয়াম। তদন্তে দেখা যায়, বিক্রির সময় ভুয়ো নথিপত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত ‘সোমাস্কন্দ’ মূর্তিটি ছিল তামিলনাড়ুর মান্নারকুডি তালুকের আলাত্তুর গ্রামের বিশ্বনাথ মন্দিরে। 'পারাভাই এবং সন্ত সুন্দরর' মূর্তিটি ছিল বীরসোলাপুরম গ্রামের শিব মন্দিরে।
