ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পর এবার চিনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে চলেছে ব্রিটেন! চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মারের বৈঠকের পর সেই জল্পনাই মাথাচাড়া দিয়েছে। 'শত্রু' চিনের সঙ্গে 'বন্ধু' ব্রিটেনের এই বৈঠকে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটেনকে কড়া বার্তা দিলেন তিনি।
জানা গিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার জিনপিংয়ের সঙ্গে এই বৈঠক করেন স্টার্মার। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে চলেছে ব্রিটেন। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও দুই দেশ আরও কয়েক কদম এগিয়ে আসবে। নিজের বাজারে আরও বেশি করে প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে। মুক্ত বাণিজ্য নিয়ে কিছু না জানালেন, দুই দেশের বাণিজ্যে শুল্কের হার যে অনেক বেশি কমতে চলেছে সে বার্তাও দেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী। দুই দেশের নাগরিকদের ভিসামুক্ত সফরের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। চিন-ব্রিটেনের এই সখ্যতা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হলে ব্রিটেনকে সতর্কবার্তা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সুর চড়িয়ে তিনি বলেন, "ওরা যদি এটা করে, তাহলে এই পদক্ষেপ ওদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে।"
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর শুল্কের খাঁড়া হাতে গোটা বিশ্বজুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর শুল্কের কোপ থেকে রেহাই পাচ্ছে না আমেরিকার দীর্ঘদিনের বন্ধুরাও। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলির সঙ্গেও দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে আমেরিকা। নতুন করে চাপানো হয়েছে শুল্ক। এই অবস্থায় ট্রাম্পকে কার্যত একঘরে করে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আমেরিকা ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপালেও ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। অন্যদিকে, ট্রাম্পকে একা ফেলে তারই প্রতিবেশী কানাডা চিনের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বেজিং সফরে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বাড়তি শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সব মিলিয়ে ট্রাম্প শাসনে বিশ্বে আরও বেশি কোনঠাসা হয়েছে আমেরিকার। বৃদ্ধি পেয়েছে শত্রুর সংখ্যা। এই অবস্থায় চিন-ব্রিটেন বন্ধুত্ব আমেরিকার কপালে বড়সড় চিন্তার ভাঁজ ফেলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও চিনের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ালে তা আমেরিকা ও ব্রিটেনের সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করেন স্টার্মার। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, "প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং বাণিজ্য সব কিছুতেই আমাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।" স্টার্মারের কথায়, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায়নি যেখানে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে কোনও একটি দেশকে বেছে নিতে হবে আমাদের।
