মার্কিন সেনেটে পাশ হয়েছে নয়া বিল। শুক্রবার পাশ হওয়া বিল আইনে পরিণত হলেই ভারতের উপরে একশো শতাংশ শুল্ক চাপাতে পারবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আসলে রাশিয়ার উপরে বিধিনিষেধ চাপানোর পাশাপাশি রাশিয়ার থেকে যে সমস্ত দেশ তেল কেনে সকলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার কথাই বলা হয়েছে ওই বিলে। যদিও নয়াদিল্লির তরফে আগেও জানানো হয়েছে, জাতীয় স্বার্থই সবচেয়ে আগে। তাই ভারত রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনবে। অর্থাৎ মার্কিন চোখরাঙানিতে কাজ হবে না।
গত বছর ভারত বিরোধী সদ্যপ্রয়াত মার্কিন সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম কড়া সুরে জানিয়েছিলেন আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যারা রাশিয়া থেকে তেল কিনছে তাদের উপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত সেই বিল কার্যকর হয়নি। তবে গ্রাহামের মৃত্যুর পর এই বিল নিয়ে তৎপর হয় হোয়াইট হাউস। এবার সেনেটে ৮৬-১১ ভোটে পাশ হয়ে গেল।
ঠিক কী বলা হয়েছে ওই বিলে? সেখানে বলা হয়েছে, যে সব দেশ রাশিয়া থেকে তেল কিংবা অন্য কোনও জ্বালানি কিনছে তারা আসলে পরোক্ষে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকেই সমর্থন করছে। এই দেশগুলির উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে আমেরিকা। এর ফলে কেবল ভারত বা চিন নয়, সমস্যা হতে পারে জাপান, আজারবাইজান, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরির মতো দেশেরও। বিলটি এবার হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভে পেশ করা হবে। সেখানে পাশ হয়ে গেলে তা আইনে পরিণত করতে কেবল ট্রাম্পের স্বাক্ষর প্রয়োজন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই বিল আইনে রূপান্তরিত হতে চলেছে।
বলে রাখা ভালো, দীর্ঘদিন ধরে দিল্লির বিরুদ্ধে 'ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রুশ আগ্রাসনকে সমর্থনে'র অভিযোগ তুলে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে প্রশ্ন উঠলে মুখের উপর কড়া জবাব দেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর। স্পষ্টভাষায় জানান, ইউরোপের তৈরি অস্ত্রে বছরের পর বছর ধরে হামলা হয়ে এসেছে। তবে ভারত এমন কোনও পদক্ষেপ করেনি যাতে ইউরোপের কোনও ক্ষতি হয়। নয়া মার্কিন আইনেও ভারত নিজের অবস্থানেই অনমনীয় দৃঢ়তায় অবস্থানে থাকবে, নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল।
