স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে পাকিস্তানের নাভিশ্বাস তুলেছে 'বালোচ লিবারেশন আর্মি' (BLA) ও তার শাখা 'মজিদ ব্রিগেড'। এই দুই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পেশ করেছিল পাকিস্তান ও চিন। তবে সেই ষড়যন্ত্রে জল ঢালল ব্রিটেন, আমেরিকা ও ফ্রান্স। ভেটো পেশ করে চিন-পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা খারিজ করা হল। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, আমেরিকা রাষ্ট্রসংঘে ভেটো পেশ করলেও নিজ দেশে বিএলএকে জঙ্গিসংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।
বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেডকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনের তালিকাভুক্ত করতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাব পেশ করেছিল চিন ও পাকিস্তান। দাবি করা হয়, আল-কায়দা ও আইএসআইএস-এর সঙ্গে যোগ রয়েছে এই সংগঠনের। পাক রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমেদ বলেন, আইএস, আল কায়দা, তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান, বিএলএ এবং মজিদ ব্রিগেড আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। এদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হোক। চলতি মাসে রাষ্ট্রসংঘে এই প্রস্তাব উঠলে ভোটো ক্ষমতাসম্পন্ন রাষ্ট্রসংঘের ৩ স্থায়ী সদস্য এই প্রস্তাব বাতিল করে। এই তিন সদস্য হল আমেরিকা, ফ্রান্স ও ব্রিটেন। বলা হয়, আল-কায়দা বা আইএস-এর সঙ্গে বালোচদের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের যথেষ্ট প্রমাণ নেই। স্বাভাবিকভাবেই বালোচিস্তানে স্বাধীনতার লড়াই চালানো বিএলএ-র বিরুদ্ধে পাক-চিনের যাবতীয় ষড়যন্ত্র বানচাল হয় রাষ্ট্রসংঘে।
আমেরিকা রাষ্ট্রসংঘে ভেটো পেশ করলেও নিজ দেশে বিএলএকে জঙ্গিসংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করে রেখেছে।
এই ঘটনা এমন সময়ে ঘটল যখন রাষ্ট্রসংঘে পাক সরকারের মদতপুষ্ট একাধিক জঙ্গি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে প্রস্তাব পেশ করেছিল ভারত। তবে বারবার চিনের বিরোধিতায় খারিজ হয় সেই প্রস্তাব। এবার চিন ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও সেই একই ঘটনা ঘটল। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০১৯ সালে আমেরিকা নিজ দেশে বিএলএ সংগঠনকে সন্ত্রাসী তালিকাভুক্ত করেছে। পাকিস্তানের মাটিতে ধারাবাহিক হামলার পর এই পদক্ষেপ করেছিল আমেরিকা। তবে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের প্রস্তাব পত্রপাঠ খারিজ করল ট্রাম্পের দেশ।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানি শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ফেলতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালাচ্ছে বালোচরা। পালটা গুমখুন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো নারকীয় অত্যাচার চালিয়ে বিদ্রোহের আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে ইসলামাবাদ। বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর তৈরি হওয়ার পর থেকেই আরও অশান্ত হয়ে উঠেছে বালোচিস্তান। অভিযোগ, খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশটিকে কার্যত লুট করছে পাক প্রশাসন। প্রতিদানে বালোচ জনতা পেয়েছে শুধু নির্যাতন ও দারিদ্র। এই অবস্থায় বিএএলএ-র নেতৃত্বে স্বাধীনতার লড়াই তীব্র হয়ে উঠেছে বালোচিস্তানে। এই অবস্থায় স্বাধীনতাকামী এই সংগঠনকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আখ্যা দিয়ে তার উপর রাশ টানার যে ষড়যন্ত্র চিন ও পাকিস্তান করছিল তা ব্যর্থ হল।
