মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ল মার্কিন যুদ্ধ বিমানবাহী রণতরী ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’। ইরানে অভিযান শুরুর আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে এটিকে মোতায়েন করা হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘জেরাল্ড ফোর্ড’ ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য ছেড়েছে। তাহলে কি যুদ্ধে ইতি টানল আমেরিকা? এই প্রশ্নটিই এখন জোরাল হচ্ছে।
জানা যাচ্ছে, গত জুন মাস থেকে টানা সমুদ্রে অবস্থান করছিল রণতরীটি। প্রথমে ভূমধ্যসাগর এবং তারপর ক্যারিবিয়ান সমুদ্র পেরিয়ে পূর্বে ইরানের নিকটবর্তী সমুদ্রে অবস্থান করছিল রণতরীটি। প্রায় ১০ মাস ধরে এটি সমুদ্রে ছিল। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের সময়ও ‘জেরাল্ড ফোর্ড’ ছিল। গত ১২ মার্চ রণতরীটিতে আগুন লেগে যায় বলে দাবি করে আমেরিকার সেনা। আহত হন দু'জন। শুধু তা-ই নয়, অগ্নিকাণ্ডের জেরে রণতরীটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও দাবি। এসবের মাঝে আবার ‘জেরাল্ড ফোর্ড’-এর শৌচাগারের বর্জ্যনিষ্কাশন ব্যবস্থাতাতেও সমস্যা ধরা পড়ে বলে জানিয়েছিল একাধিক সংবাদমাধ্যম। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনপিআর ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন দাবি করা হয়েছিল, রণতরীটির বর্জ্যনিষ্কাশন ব্যবস্থার হাল বেহাল। বর্জ্য পরিষ্কারের নালাগুলি বারবার বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ভ্যাকুয়াম সিস্টেম এতটাই জটিল যে কোনওভাবেই তা ঠিক করা সম্ভব হচ্ছিল না। সব মিলিয়ে ভোগান্তি চরম আকার নিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত রক্তাক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল ইরান-আমেরিকা। একের পর এক ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল ইরান। কিন্তু তা-ও লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরে আসেনি তেহরান। ইরানের পালটা জবাবে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল গোটা মধ্যপ্রাচ্য। প্রাথমিভাবে সেখানে ছড়িয়ে ছটিয়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। কিন্তু তারপর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বেপরোয়া হামলা চালাতে শুরু করে তেহরান। অবশেষে ৪০ দিন পর সাময়িক সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়েছে দু’দেশ। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও হয়নি।
