আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ঘনাচ্ছে যুদ্ধের মেঘ? শুক্রবার আচমকাই হরমুজ প্রণালীর নাম পালটে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পালটা ঝড় উঠবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এহেন পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, ইরান-আমেরিকার যুদ্ধ শুরু হওয়া স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। দেশের নাগরিকদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হল, আপাতত ইরান, লেবানন এবং ইরাকে যাওয়া আপাতত বন্ধ।
আমিরশাহীর বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে নাগরিকদের জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। তাই আমিরশাহীর নাগরিকদের ইরান, লেবানন এবং ইরাকযাত্রা আপাতত নিষিদ্ধ করা হল। এই তিন দেশে আমিরশাহীর যে নাগরিকরা রয়েছেন, তাঁদেরও অবিলম্বে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছেড়ে চলে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমিরশাহী বিদেশমন্ত্রকের মতে, দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাটাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। সেকারণেই ওই তিন দেশে নাগরিকদের যাওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে আপাতত যুদ্ধবিরতি থাকলেও ছবিটা খুব দ্রুত পালটে যেতে পারে বলেই আশঙ্কা বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। দিনদুয়েক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুমকি দিয়েছিলেন, ভালোমানুষির দিন শেষ। তারপর থেকেই উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে। হরমুজ প্রণালীর নাম পালটে ট্রাম্প প্রণালী করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার পালটা ইরানের হুমকি, ট্রাম্পের এই কাণ্ডের পর ঝড় উঠবে।
বেশ কয়েকবার আমেরিকা এবং ইরানে মধ্যে শান্তি আলোচনার চেষ্টা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনও লাভ হয়নি। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান আমেরিকাকে জানিয়ে দিয়েছে পরমাণু আলোচনায় বসতে হলে তাদের দু’টি শর্ত মানতে হবে। প্রথমত, ইরান এবং লেবাননে সম্পূর্ণভাবে যুদ্ধ থামাতে হবে। পাশাপাশি, নতুন করে যাতে সংঘাত সৃষ্টি না হয়, তা-ও নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালীতে আমেরিকা যে অবরোধ তৈরি করে রেখেছে, তা তুলতে হবে। কিন্তু ইরানের দেওয়া প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের বারুদ জমছে বলেই আশঙ্কা।
