শিকেয় উঠল সংঘর্ষবিরতি। "আজ রাতে ভয়ংকর হামলা হবে ইরানে," বৃহস্পতিবার খোলা হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত দু'রাতেও মোজতবা খামেনেইর দেশে হামলা চালায় মার্কিন সেনা। এদিন ট্রুথ সোশালে ট্রাম্প লিখেছেন, "আজ রাতে ইরানে বড়সড় হামলা চালাবে আমেরিকা। যাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডার, বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সব ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, মায় আক্রমণাত্মক সক্ষমতার সিংহভাগ ইতিমধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।"
বুধ রাতেও ‘ইটের বদলা পাথর’-এর হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এবার হামলা চালিয়ে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সেতুগুলিকে ধ্বংস করা হবে। মার্কিন বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবার নিশ্চিত করে, তারা ইরানের অভ্যন্তরে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে "আত্মরক্ষামূলক অতিরিক্ত হামলা" চালিয়েছে। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ইরানে সামরিক অভিযান চালাল পেন্টগন। বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, এবার খর্গ দ্বীপের দখল নেবে আমেরিকা। উল্লেখ্য, খর্গ দ্বীপ হল ইরানের অর্থনৈতিক শক্তির প্রাণকেন্দ্র। এখানেই উৎপাদিত হয় দেশটির অশোধিত তেলের নব্বই শতাংশ।
এই বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য, "অদূর ভবিষ্যতের কোনও এক পর্যায়ে আমরা খার্গ দ্বীপ এবং অন্যান্য তেল-অবকাঠামো কেন্দ্রগুলির নিয়ন্ত্রণ নেব। ওদের তেল ও গ্যাসের পূর্ণ কর্তৃত্ব নেব আমরা, ঠিক যেমনটা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করেছি। যা ভেনেজুয়েলা ও আমেরিকা উভয় দেশের জন্যই ফলপ্রদ হয়েছে।"
মাঝে হরমুজে প্রণালীতে ইরানি জাহাজ মার্কিন সেনার হামলার মুখে পড়ে। জবাব দিতে বাহারিন, কুয়েত এবং জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। এপ্রিল সংঘর্ষবিরতির এটাই ছিল দুই দেশের সবচেয়ে বড় সংঘাত। ইরানের পালটা হামলাকে যুদ্ধের বার্তা হিসাবেই দেখছেন ট্রাম্প। ট্রুথ সোশাল মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, “তাদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অত্যন্ত বেশি সময় নিয়েছে। এবার তাদের এর মাশুল গুনতে হবে!” হুঁশিয়ারির ভঙ্গিতে ট্রাম্প যোগ করেন, “ইরান কেবল কথাই বলে, কিন্তু কাজের বেলায় কিছু করে না। মধ্যপ্রাচ্যের সেই গুণ্ডা এবার খতম…!” ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান, ইরানে বড়সড় হামলা চালাতে চলেছে আমেরিকা। তার সতর্কবার্তা শোনা গিয়েছে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিতে।
