বাবা সদ্যপ্রয়াত চিরশত্রুর আঘাতে। ট্রাম্পের সেনার হাতে হাত মিলিয়ে তাঁকে মেরেছে ইজরায়েল। বাবার পদের উত্তরসূরী হয়েছেন ছেলে। আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর যে তাঁর দ্বিতীয় পুত্র, মোজতবা খামেনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হয়েছেন–সে ঘোষণাও হয়ে গিয়েছে আগেই। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, সে দেশের মানুষই তা মানতে রাজি নন। বাবার জায়গায় ছেলেকে মেনে নিতে ইরানবাসী এতটাই নারাজ যে তাঁর মৃত্যু-কামনাও করতে দ্বিধা নেই তাঁদের। সদ্য-প্রকাশিত একটি ভিডিওয় তেমনটাই ধরা পড়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সেই ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, মানুষজন বাড়ি থেকে চিৎকার করে বলছেন ‘মোজতবার মৃত্যু হোক’! গোটা একটি পাড়া গমগম করছে মৃত্যু-কামনার সেই স্লোগানে। ওয়াকিবহাল মহলের অভিমত, ক্ষমতার বংশানুক্রিমক পালাবদল মেনে নিতে চাইছেন না ইরানবাসী।
মোজতবার পাশে থাকব: পুতিন
তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দেশের লোক নিজেদের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে মেনে নিতে না চাইলেও, পাশে থাকছে বিদেশ। মোজতবাকে সমর্থন করে বার্তা এসেছে রাশিয়া থেকে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি বার্তা দিয়ে সোমবার বলেছেন, ‘‘তেহরাণের প্রতি আমাদের যে সমর্থন আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি তা আবারও নিশ্চিত করছি। তেহরাণ এবং ইরানের পাশে আছি, থাকব। রাশিয়া ইরানের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়েই থাকবে। বর্তমান সময়ে ইরান যে সশস্ত্র আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়ছে, তখন সর্বোচ্চ নেতা হিসাবে আপনার (মোজতবাকে উদ্দেশ্য করে) শাসনে নিঃসন্দেহে দুরন্ত সাহস এবং নিষ্ঠার প্রয়োজন হবে।’’ এর আগে মোজতবার দায়িত্বপ্রাপ্তি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘খামেনেইয়ের পুত্রকে মেনে নিতে পারছি না।’’
‘‘তেহরাণের প্রতি আমাদের যে সমর্থন আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। আমি তা আবারও নিশ্চিত করছি। তেহরাণ এবং ইরানের পাশে আছি, থাকব। রাশিয়া ইরানের বিশ্বস্ত সঙ্গী হয়েই থাকবে।"
ইজরায়েল-আমেরিকা বিবাদ?
এদিকে এতদিন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ চালালেও এবার খবরে ইজরায়েল-আমেরিকার মতানৈক্য। শনিবার ইরানের ৩০টি তেলের খনিকে ‘টার্গেট’ করে হামলা চালায় ইজরায়েলি সেনা। খবর আমেরিকার কাছে ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সীমানার অনেকটা বেশি জায়গাজুড়ে হয় হামলা। সে কথা জেনে বিস্ময় প্রকাশ করে মার্কিন সেনা। তাদের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘মোটেই ভাল পরিকল্পনা নয়।’’
