ছোটখাটো বিক্ষোভ দমনে বিশাল বড় ভুল করে বসল মার্কিন অভিবাসন দপ্তর! অভিবাসীদের প্রতিবাদে নির্বিচার গুলিতে প্রাণ হারানো যুবক কোনও অভিবাসী নন, তিনি মার্কিন নাগরিক। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বাহিনীর হাতে পর পর দু'টি খুনের ঘটনায় উত্তাল আমেরিকা। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন নিউ ইয়র্কের মেয়র এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধী নেতা জোহরান মামদানি। আইসিই বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মামদানি।
এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে মামদানি লেখেন, 'দিনের আলোয় রেনি গুডকে হত্যা করেছে আইসিই।' তিনি আরও লেখেন, 'মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই তারা অ্যালেক্স প্রেটিকে হত্যা করেছে। তাঁর উপর ১০ বার গুলি চালানো হয়েছে। প্রতিদিন, আমরা দেখি কিভাবে মানুষকে তাদের গাড়ি, তাদের বাড়ি, তাদের জীবন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আমরা এই নিষ্ঠুরতা থেকে নিজেদেরকে দূরে সরিয়ে নিতে পারি না। আইসিই-কে বন্ধ করতে হবে।'
একটি সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, "আমি মনে করি আমরা যা দেখেছি তা ভয়াবহ।" তিনি আরও বলেন, "অনেক আমেরিকান আছেন যাদেরকে বলা হচ্ছে তারা যেন নিজেদের চোখ-কানকে বিশ্বাস না করেন। বাস্তবতাকে অবিশ্বাস করতে বলা হচ্ছে।"
রেনি গুডের হত্যার ভিডিও দেখিয়ে মামদানির দাবি, সেই ঘটনা খুন ছাড়া অন্য কিছুই নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সরাসরি আক্রমণ করে মামদানির দাবি, মানুষের মনের মধ্যে থাকা এই ভয় শুধু মিনিয়াপোলিসের নয়। নিউ ইয়র্কের মানুষের মনেও ভয় রয়েছে। তাঁদের জীবনকে 'সন্ত্রাসপূর্ণ' করে তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এমন ঘটনা যাতে নিউ ইয়র্কের কারোর সঙ্গে না ঘটে তা নিশ্চিত করবেন মামদানি এমনটাই দাবি করেছেন তিনি।
তিনি জানিয়ে দেন, প্রেসিডেন্টেকে তিনি জানিয়েছেন, আইসিই যে তল্লাশি চালায় তা অত্যন্ত ক্রূঢ়। তাঁর দাবি, আমেরিকার মানুষ 'সত্যি দেখতে চায় এবং সত্যি জানতে চায়।'
শনিবার রাতে মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসী বিক্ষোভে গুলিচালনায় একজনের মৃত্যু ঘিরে পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হচ্ছিল। একমাসে এনিয়ে দু'বার এমনটা ঘটল আমেরিকায়। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি অভিবাসন দপ্তরের গুলিতে রেনে নিকোলে গুড নামে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। অভিবাসী বিতাড়নে ট্রাম্পের এই দমনপীড়ন নীতি মেনে নিতে পারেননি অ্যালেক্স। আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রোগীদের দেখাশোনা করা অ্যালেক্স আসলে খুব নরম মনের মানুষ। তাই ওই মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতে বিক্ষোভকারীদের মিছিলে শামিল হয়েছিলেন মিতভাষী বছর সাঁইত্রিশের যুবক। আর তাতেই তাঁর জীবনে নেমে মৃত্যুর অন্ধকার।
সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, মিছিল থেকে অ্যালেক্সকে টেনে নিয়ে যায় অভিবাসন দপ্তরের ৬ কর্মী। তাঁকে প্রশ্ন করতে করতে মাটিতে শুইয়ে দেওয়া হয়। এই ভিডিও রেকর্ড করছিলেন এক মহিলা। অ্যালেক্সের পরিস্থিতি দেখে তিনি চিৎকার করে ওঠেন। প্রশ্ন তোলেন, কী হচ্ছে এটা? কিন্তু তারপরই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে। অভিবাসন দপ্তরের কর্মীরা মুহুর্মুহু গুলি চালাতে থাকে। তাতেই নিথর হয়ে যান অ্যালেক্স। পরে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। আর তাতেই অবৈধ নাগরিক বিতাড়ণে বড়সড় ভুলের জন্য কাঠগড়ায় তোলা হল অভিবাসন দপ্তরকে।
