দ্বিতীয় দফায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বছরের শাসনকালে বদলে গিয়েছে বিশ্ব কূটনীতি। এবার তাতেই সিলমোহর দিয়ে ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক হুঁশিয়ারি উড়িয়ে ভারতে আসছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সাউথ ব্লক সূত্রে খবর, আগামী মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে ভারতে সফরে আসতে পারেন কার্নি। উভয় দেশ বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে এই সফরে।
সম্প্রতি চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সমঝোতা নিয়েও আলোচনা সেরেছে কানাডা। চিন সফরে গিয়ে কার্নে বলেন চিন কানাডার ‘বিশ্বস্ত বন্ধু’। চিনের তৈরি বৈদ্যুতিক গাড়ি স্বল্প শুল্কে আমদানি করতে চায় কানাডা। পরিবর্তে কানাডার কৃষিজ পণ্য চিনে স্বল্প শুল্কে রপ্তানি করতে চাইছে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের সরকার। জিনপিঙের সঙ্গে কার্নের এই সম্ভাব্য সমঝোতায় আপত্তি করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, কানাডাকে একটি ‘ট্রানজ়িট পোর্ট’ হিসাবে ব্যবহার করতে চাইছে চিন। ট্রাম্প সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, চিনের সঙ্গে কোনও চুক্তি করলে সঙ্গে সঙ্গে কানাডার উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপানো হবে।
এমন গরম হাওয়ার মধ্যে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর তাৎপর্যপূর্ণ। ক'দিন আগেই কার্নে মন্তব্য করেন, পুরনো দাদাগিরির দিন ফুরিয়েছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলিকে নতুন কূটনৈতিক দিশা দিতে হবে। কানাডায় ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীনেশ পটনায়ক কার্নির সফরের বিষয়টিতে সিলমোহর দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সম্ভবত মার্চের প্রথম সপ্তাহে কানাডার প্রধানমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন। একাধিক বিষয়ে চুক্তি হবে উভয় দেশের মধ্যে। যদিও কার্নির দপ্তর এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে নিশ্চিত করেনি।
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ১০০ শতাংশ শুল্ক হুঁশিয়ারির পর পালটা ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর বক্তৃতায় আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলেন কার্নে। তার সেই বক্তৃতার পরে অনেকে উঠে দাঁড়িয়ে হাততালিও দিয়েছিলেন। এর পরেই আচমকা গাজায় শান্তি ফেরানোর জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগদানের জন্য কানাডাকে পাঠানো আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করে নেয় আমেরিকা।
