আকাশগঙ্গার গোলকধাঁধায় রাহু কেবল একটি ছায়াগ্রহ নয়, জ্যোতিষশাস্ত্রে সে এক রহস্যময় জাদুকর। কখনও সে রাজা বানায়, কখনও আবার মুহূর্তের ভুলে পথের ভিখারি। বিশেষ করে রাজনীতির পিচ্ছিল পথে পা রাখতে গেলে কুণ্ডলীতে রাহুর তুঙ্গ দশা থাকা একপ্রকার অনিবার্য বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেন এই গ্রহকে ঘিরে এত চর্চা? কেনই বা একে বলা হয় ‘নীতি নির্ধারক’?
ফাইল ছবি
বৈদিক জ্যোতিষ মতে, রাহু ও কেতুর নিজস্ব কোনও অবয়ব নেই। এরা ছায়ার মতো মানুষের ভাগ্যকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখে। রাহুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হল আকস্মিকতা। আপনার জীবনে যা কিছু অপ্রত্যাশিত—তা সে বিপুল অর্থপ্রাপ্তি হোক বা আচমকা পতন—তার নেপথ্যে এই ছায়াগ্রহের হাত থাকা স্বাভাবিক। তবে রাহু মানেই কেবল অশুভ নয়। রাহুর শুভ দৃষ্টি থাকলে এক লহমায় বদলে যেতে পারে ললাটের লিখন।
রাজনীতির ময়দানে সফল হতে গেলে শুধু পাণ্ডিত্য বা জনভিত্তি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ক্ষুরধার কূটনৈতিক বুদ্ধি। জ্যোতিষীরা বলছেন, সূর্যের পরেই রাহু হল সেই গ্রহ যা মানুষকে কৌশলী ও দূরদর্শী করে তোলে। রাজনীতির অন্দরে দলাদলি বা জোটের সমীকরণ বুঝতে রাহুর প্রভাব অপরিহার্য। কুণ্ডলীর তৃতীয়, ষষ্ঠ বা একাদশ ঘরে যদি রাহু বলবান থাকে, তবে সেই জাতকের রাজনীতিতে উত্থান হয় উল্কার গতিতে। সাধারণ এক কর্মী থেকে রাতারাতি নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠার নেপথ্যে থাকে রাহুর মহাদশা।
রাহু প্রধান জাতকদের চরিত্র হয় অত্যন্ত জটিল এবং কৌশলী। এঁরা জন্মগতভাবেই সাহসী এবং ঝুঁকি নিতে পিছপা হন না। বুদ্ধি এঁদের তলোয়ারের মতো ধারালো। পরিস্থিতি বুঝে মুহূর্তের মধ্যে নিজের চাল বদলে ফেলার এক অদ্ভুত ক্ষমতা থাকে এঁদের মধ্যে। এঁরা সব সময় নতুন সুযোগের সন্ধানে থাকেন এবং প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করতে সিদ্ধহস্ত।
ছবি: সংগৃহীত
রাজনীতির ময়দানে সফল হতে গেলে শুধু পাণ্ডিত্য বা জনভিত্তি যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন ক্ষুরধার কূটনৈতিক বুদ্ধি। জ্যোতিষীরা বলছেন, সূর্যের পরেই রাহু হল সেই গ্রহ যা মানুষকে কৌশলী ও দূরদর্শী করে তোলে। রাজনীতির অন্দরে দলাদলি বা জোটের সমীকরণ বুঝতে রাহুর প্রভাব অপরিহার্য। কুণ্ডলীর তৃতীয়, ষষ্ঠ বা একাদশ ঘরে যদি রাহু বলবান থাকে, তবে সেই জাতকের রাজনীতিতে উত্থান হয় উল্কার গতিতে। সাধারণ এক কর্মী থেকে রাতারাতি নীতিনির্ধারক হয়ে ওঠার নেপথ্যে থাকে রাহুর মহাদশা।
অনেক দুঁদে রাজনীতিবিদই তাই রাহুর কৃপা পেতে হাতে ‘গোমেদ’ ধারণ করেন। প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়া বা শেষ মুহূর্তের চালে পাশা উলটে দেওয়ার যে ক্ষমতা, তা রাহুই প্রদান করে। তবে মনে রাখা জরুরি, কেবল রাহু একাই সবটা করে না। কুণ্ডলীতে রাজযোগ বা পঞ্চমহাপুরুষ যোগের উপস্থিতিও সাফল্যের পথ প্রশস্ত করে। অন্যদিকে, কালসর্প বা কেমদ্রুম যোগের বাধা কাটিয়ে উঠতে পারলেই কেল্লাফতে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যাঁর সহায় রাহু, রাজনীতির দাবার বোর্ডে তাঁর হার প্রায় অসম্ভব।
