মহাকাশে গ্রহ-নক্ষত্রের ফেরে মাঝেমধ্যেই তৈরি হয় এমন কিছু মুহূর্ত, যা বদলে দিতে পারে সাধারণ মানুষের জীবনের গতিপথ। চলতি মার্চ মাসের শেষে এমনই এক বিরল মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী থাকতে চলেছে আকাশ। জ্যোতিষশাস্ত্রের গণনায় উঠে আসছে সূর্য ও চন্দ্রের এক বিশেষ অবস্থানের কথা। একই রাশিতে অবস্থান করে যখন এই দুই প্রধান গ্রহ একটি নির্দিষ্ট বিপরীত কোণ তৈরি করে, শাস্ত্রীয় ভাষায় তাকেই বলা হয় ‘ব্যতিপাত যোগ’।
সাতাশটি প্রাকৃতিক যোগের মধ্যে ব্যতিপাত হল ১৭তম। সাধারণ বিচারে অনেক সময় এই যোগকে অশুভ মনে করা হলেও, আধ্যাত্মিক সাধনার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অপরিসীম। পুরাণ মতে, এই মাহেন্দ্রক্ষণে জপ, তপ এবং দান করলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি পুণ্য লাভ হয়। বিশেষ করে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য এই সময়টি অত্যন্ত প্রশস্ত। মনে করা হয়, এই সময়ে নিষ্ঠাভরে শিবপূজা করলে জাতক কঠিনতম পাপ থেকেও মুক্তি পেতে পারেন।
তবে এই বিরল সংযোগ শুধুমাত্র আধ্যাত্মিক নয়, জাগতিক প্রাপ্তিরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্রহের এই ফেরে বিশেষ করে দুই রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে খুশির জোয়ার আসতে চলেছে।
ফাইল ছবি
সিংহ রাশি
সিংহ রাশির জাতকদের জন্য এই যুতি এক নতুন ভোরের বার্তা নিয়ে আসছে। দীর্ঘদিনের মানসিক অস্থিরতা ও অশান্তি এবার বিদায় নেবে। যারা কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন বা নতুন চাকরির সন্ধান করছেন, তাঁদের স্বপ্নপূরণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পারিবারিক কলহ মিটে গিয়ে ঘরে শান্তি ফিরবে। শুধু তাই নয়, পুরনো কোনও বিনিয়োগ থেকে বড় মাপের আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারেন সিংহ রাশির জাতকরা।
ফাইল ছবি
কর্কট রাশি
যেহেতু কর্কট রাশির অধিপতি স্বয়ং চন্দ্র, তাই সূর্য-চন্দ্রের এই মিলন এই রাশির জীবনে আমূল পরিবর্তন আনবে। অমীমাংসিত অনেক কাজ এবার দ্রুত গতিতে শেষ হবে। দাম্পত্য কলহের অবসান ঘটে বৈবাহিক জীবনে মাধুর্য ফিরবে। তবে জ্যোতিষীদের পরামর্শ, এই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অভিজ্ঞ বা পরিবারের বড়দের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সব মিলিয়ে মাসের শেষে এই মহাজাগতিক ঘটনা বেশ কিছু মানুষের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিতে চলেছে। তবে মনে রাখবেন, ইষ্টদেবতার আরাধনা এবং আর্ত মানুষের সেবা করলে এই শুভ প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়।
