shono
Advertisement

ফ্যাকাশে রং! রক্তাল্পতায় ভুগছেন না তো?

দেরি নয়, শীঘ্রই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন! The post ফ্যাকাশে রং! রক্তাল্পতায় ভুগছেন না তো? appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 07:03 PM Sep 17, 2016Updated: 01:33 PM Sep 17, 2016

সোমা মজুমদার: কয়েকদিন ধরেই ক্লান্তি অনুভব করছেন? একটু পরিশ্রম করতে না করতেই ঝিমিয়ে পড়ছেন? কিংবা পুজোর মুখে সুন্দর মুখখানি দেখতে ফ্যাকাশে লাগছে? দেরি নয়, শীঘ্রই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিন৷ কারণ অজান্তেই আপনি অ্যানিমিয়াতে আক্রান্ত হতে পারেন৷ যা প্রেগন্যান্সির সময়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে৷ দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হতে পারে ক্যানসারও৷
যদিও ডাক্তারি পরিভাষায় অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা কোনও রোগ নয়৷ রোগের উপসর্গ৷ কোনও কারণে শরীরে রক্ত তৈরি না হলে বা তৈরি হলেও তা সরে গেলে রক্তাল্পতা দেখা দেয়৷ রক্তের লোহিতকণিকা, শ্বেতকণিকা, অণুচক্রিকা কমে গেলেও অ্যানিমিয়া হয়৷ বিশেষ করে ভারতের মতো দেশে বেশিরভাগ মহিলা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন৷ কয়েক বছর আগে একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে যে কলকাতায় ৯০% মানুষ রক্তাল্পতার শিকার৷ ভারতে পুরুষদের শরীরে রক্তের মাত্রা ১৩-এর নিচে এবং মহিলাদের ১২-এর নিচে থাকলে রক্তাল্পতা বলে ধরা হয়৷ অনেক সময় দীর্ঘদিন অবহেলা করলে অ্যানিমিয়া বাচ্চাদের এবং বড়দের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতার উপরও প্রভাব ফেলে৷

Advertisement

কারণ:
নিউট্রিশন বা অপুষ্টির কারণে এ দেশে সবচেয়ে বেশি রক্তাল্পতা হয়৷ যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল রোজকার খাদ্যতালিকায় আয়নের ঘাটতি৷ সুষম আহারের অভাবে বেশিরভাগ মানুষ রক্তাল্পতায় ভোগেন৷ খাবার ঠিকমতো না ধুয়ে খেলে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না করলে কৃমি হয়, যা রক্তাল্পতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ৷
রক্ত তৈরিতে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন বি১২৷ এর ফলে প্রাণীজ প্রোটিনে সবচেয়ে বেশি ভিটামিন বি ১২ থাকে৷ যাঁরা নিরামিশাষী, তাঁদের অনেক সময় ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি দেখা যায়৷ এর ফলে অ্যানিমিয়া হয়৷
কোনও কারণে রক্তক্ষরণ হলে শরীরে চাহিদার নিচে রক্তের মাত্রা নেমে যায়৷ সেক্ষেত্রেও রক্তাল্পতা লক্ষ্য করা যায়৷ মহিলাদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের কারণে এই রক্তক্ষরণের প্রবণতা বেশি থাকে৷ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় আয়রনের খামতি দেখা যায়৷ ঋতুচক্র ঠিকঠাক না হলেও রক্তাল্পতা হয়৷ কোষ্ঠকাঠিন্য, আলসার, অর্শ রোগের জন্য অন্ত্র বা পাকস্থলী থেকে রক্তক্ষরণ হলেও শরীরে রক্তের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যায়৷
হার্টের সমস্যা বা বিভিন্ন অসুখের জন্য আজকাল বহু মানুষ অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খেয়ে থাকেন৷ এর ফলেও আভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হয়৷ এছাড়া কিডনির অসুখেও রক্তাল্পতা দেখা যায়৷ কিডনির ক্রিয়া ঠিকমতো না হলে রক্ত যথাযথভাবে তৈরি হতে পারে না৷

অজান্তে অ্যানিমিয়া:
ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস, বাতের কারণে অ্যানিমিয়া হয়৷ ‘পেইন কিলার’ জাতীয় ওষুধ ঘন ঘন ফেলে বা দীর্ঘদিন ধরে স্টেরয়েড খেলে অজান্তেই রোগী অ্যানিমিয়ায় ভোগেন৷

সাবধানতা:
চল্লিশোর্ধ্ব কোনও ব্যক্তি বা মহিলার হঠাৎ গ্যাসট্রিকের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হচ্ছে কি না তা বুঝতে অবশ্যই এন্ডোস্কোপি, কোলোনোস্কোপি টেস্ট করানো উচিত৷ রক্তক্ষরণ বাড়তে থাকলে গ্যাসট্রিক ক্যানসার হতে পারে৷ এক্ষেত্রে একটি ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত আছে যে গলগল করে রক্ত বের না হলে শরীরে কোনও প্রভাব পড়ে না, কিন্তু আদতে তা নয়৷ বরং শরীরে সামান্য রক্তক্ষরণ দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে আপনি ক্যানসারের মতো মারণরোগের দিকে এগোতে থাকবেন৷ আবার অনুচক্রিকা, শ্বেতকণিকা কমে যাওয়ার পিছনে অনেক সময় ব্লাড ক্যানসার বা আরও ভয়াবহ রোগ লুকিয়ে থাকে৷ তাই এই ধরনের কোনও সমস্যায় প্রথম অবস্থাতেই পরীক্ষা করে সঠিক চিকিৎসা না করে অবহেলা করবেন না৷

লক্ষণ:
অল্পে ক্লান্ত হয়ে পড়া৷
দুর্বলতা৷
ফ্যাকাশে মুখ বা ত্বকে হলদেভাব৷
অনিয়মিত হৃদস্পন্দন৷
নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা৷
মাথা ঘোরা৷
বুকে ব্যথা৷
হাত-পায়ের পাতা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া৷
মাথায় ব্যথা৷

ডাক্তারের কাছে কখন যাওয়া উচিত:
অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়লে অথবা বিশেষ কোনও কারণ ছাড়াই অবসাদগ্রস্ত দেখালে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত৷ এসব ক্ষেত্রে আয়রন, ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতির জন্য অ্যানিমিয়া বেশি হয়৷ তবে অ্যানিমিয়া ছাড়াও ক্লান্তি বা অবসাদের আরও অনেক কারণ থাকতে পারে৷ তাই ক্লান্ত অনুভব হলেই ধরে নেবেন না আপনার রক্তাল্পতা হয়েছে৷

কী কী খাবেন:
শরীরে আয়রনের জোগান দিতে পারে কুলেখারা পাতা৷ এছাড়া কাঁচকলা, পেয়ারা, সবুজ শাকসবজি, বেদানা, খেজুর, মাংসের মেটে অ্যানিমিয়া কমাতে সাহায্য করে৷ লোহার কড়াইয়ে রান্না করলে শরীরে আয়রন বা লোহা যায়৷ আয়রনের মাত্রা বাড়াতে বেশি দামি ওষুধের প্রয়োজন নেই৷ হিমোগ্লোবিন স্বাভাবিকের থেকে কমে গেলে দিনে তিনটে করে সাপ্লিমেন্ট ট্যাবলেট খেতে হয়৷ ঠিকমতো খেলে ১০ দিনে ১ গ্রাম মতো হিমোগ্লোবিন বাড়তে পারে৷

কী করবেন না:
যখন তখন ‘পেইন কিলার’ বা ব্যথার ওষুধ খাওয়া উচিত নয়৷
ধূমপান এবং মদ্যপান বর্জন করুন৷
স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করুন৷ অনেকক্ষণ খালিপেটে থাকা চলবে না৷

গর্ভাবস্থায় সতর্কতা:
রক্তাল্পতার কারণে এ দেশে ৪০ শতাংশ প্রসূতির মৃত্যু হয়৷ হিমোগ্লোবিন ৮-এর নিচে নেমে গেলে কম ওজনের শিশু জন্মানোর আশঙ্কা বাড়ে৷ আর হিমোগ্লোবিন ৫-এর নিচে নামলে ভাবী মায়ের মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায় ৮-১০ গুণ৷ কাজেই হিমোগ্লোবিন ১০-এর উপরে না রেখে অন্তঃসত্ত্বা হলে যথেষ্ট ঝুঁকি থাকে৷

থ্যালাসেমিয়ায় সতর্কতা:
থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে রক্তে হিমোগ্লোবিন ১০-১২-এর মধ্যে হতে পারে৷ থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত নয়৷ তাই রক্ত কমলেই চোখ বন্ধ করে আয়রন জাতীয় খাবার খাবেন না৷ কারণ থ্যালাসেমিয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আয়রন শরীর থেকে বের করার জন্য ওষুধ নিতে হয়৷ এই ধরনের কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে অবশ্যই আপনি থ্যালাসেমিয়ার বাহক কি না তা পরীক্ষা করে জেনে নিন৷

আরও জানতে এনআরএস হাসপাতালের হেমাটোলজিস্ট ডাক্তার প্রান্তর চক্রবর্তীর সঙ্গে যোগাযোগ করুন এই নম্বরে- 9830032861। এছাড়া ক্লিক করে দেখে নিন epaper.sangbadpratidin.in

The post ফ্যাকাশে রং! রক্তাল্পতায় ভুগছেন না তো? appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement