সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বিরোধীকণ্ঠ রোধ করতে 'আয়নাঘর' (গোপন বন্দিশালায় আটক করে রাখা) তৈরি করেছিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। জামাত-বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলগুলি বারবার এমন দাবি করেছে। সেই সুরে সুর মেলাল অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গুমঘর সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন। রবিবার ওই কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, 'রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই গুম করা হত।' এখন প্রশ্ন উঠছে, হাসিনার সেই কড়া রাজনৈতিক লাগাম সরতেই কি মৌলবাদী জামাত সাপের পাঁচ পা দেখেছে?
রবিবার গুম সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিশন জানিয়েছে, গুম হওয়া যে ব্যক্তিরা জীবিত ফিরেছেন তাঁদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই জামাত শিবিরের নেতাকর্মী। এছাড়া ২২ শতাংশ রয়েছেন বিএনপি এবং তার শাখা সংগঠনের নেতাকর্মী। কমিশন আরও জানিয়েছে, তাদের কাছে মোট ১,৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলি যাচাই করার পরে ১,৫৫৯টি অভিযোগকে তারা গুম হিসাবে বিবেচনা করছে। তাদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় থাকা ব্যক্তি ৯৪৮ জন। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগকে ‘গুম এবং মৃত’ (মিসিং অ্যান্ড ডেড) বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গুমের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলেই জানিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তারা বলেন, "আমরা যে ডেটা পেয়েছি তাতে প্রমাণিত যে এটি পলিটিক্যালি মোটিভিটেড ক্রাইম।" কমিশন আরও দাবি করেছে, হাই প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক, তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে (Bangladesh) হাসিনার আমলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিরোধীদের দমনপীড়ন, অবৈধ ভাবে আটক করে রাখা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো, এমনকী গুপ্তহত্যার মতো অভিযোগও উঠেছে। এখন ইউনুসের তদন্ত কমিশের তথ্যই বলছে, হাসিনার 'আয়নাঘরে' সব থেকে বেশি করে ঠাঁই হয়েছে জামাত শিবিরের। লক্ষ্যণীয় হাসিনার পতনের পরেই এই কট্টরপন্থী শিবিরটি সক্রিয় হয়ে উছেছে বাংলাদেশে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমানে জামাত শিবিরের পুতুল সরকার চলছে ঢাকায়। নেতৃত্বে মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus)। সেই কারণেই মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, সংখ্যালঘু নির্যাতন, মন্দিরে হামলা, সংবাদপত্রে, ছায়ানটের মতো সাংস্কৃতিক সংগঠনে উপরেও হামলা। সবচেয়ে বড় কথা, মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য মুছে ফেলার চেষ্টা। প্রশ্ন উঠছে, আজকের এই পরিস্থিতি যাতে না হয় তার জন্যই কি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিলেন হাসিনা?
