বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে 'ফ্যাসিস্ট' দল আখ্যা দিয়ে আওয়ামি লিগ ও তাদের শাখা সংগঠন ছাত্রলিগ, যুবলিগ - সকলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। যে কারণে গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামি লিগ। তারেক রহমানের শাসনামলেও তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ। তবে মাঝেমধ্যে লিগ ও এর শাখা সংগঠনের কর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিয়েছে। তাতেই সাতজনকে আটক করল পুলিশ। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাদের আটক করা হয়েছে বলে দাবি।
শনিবার ছাত্রলিগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এবং যশোরে যুবলিগ মিছিল বের করেছিল। পুলিশ দু'জায়গা থেকেই কয়েকজনকে আটক করেছে। আজ শনিবার ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে ঝটিকা মিছিল বের করে 'নিষিদ্ধ' সংগঠন ছাত্রলিগ। তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলিগের নেতা-সহ দু'জনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ, শনিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ তাঁরা এই ঝটিকা মিছিল বের করেন। আটক ব্যক্তিরা হলেন, স্যার এ এফ রহমান হল ছাত্রলিগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহান তানভির নাসিফ ও মাইক্রোবাস চালক রুবেল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, সকালে ১০ থেকে ১২ জন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে মিছিল ও ব্যানার প্রদর্শন করেন। সংক্ষিপ্ত সময়ে কর্মসূচি শেষ করেই তাঁরা দ্রুত একটি কালো মাইক্রোবাসে উঠে ঘটনাস্থল ছাড়েন। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরেকটি মাইক্রোবাস থেকে দু'জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ‘‘আটক হওয়া একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।'' ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, ‘‘রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলিগের ঝটিকা মিছিল চলাকালে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।''
অপরদিকে, দেশের পশ্চিমের জেলা যশোর শহরে যুবলিগের ব্যানারে মিছিল ও সমাবেশের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কাজিপাড়া এলাকার আনসার আলির ছেলে সৈয়দ তৌফিক জাহান, একই এলাকার নুরল আলমের ছেলে শফিকুল ইসলাম সুজন, মৃত লোকমানের ছেলে বাবলু শেখ, শহিদুল ইসলামের ছেলে সোহান হোসেন এবং ষষ্ঠীতলা এলাকার সৈয়দ আহমদের ছেলে আনোয়ার হোসেন বাবু।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তারা সামাজিক মাধ্যমে আওয়ামি লিগের একটি ফেসবুক পেজ থেকে যশোরে যুবলিগের দুটি কর্মসূচি পালনের দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করেছিল। ভিডিওতে শহরের গরিব শাহ রোডে মিছিল থেকে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। আরও একটি ভিডিওতেও যুবলিগের কর্মসূচির দাবি করা হয়। বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের নির্দেশে একাধিক টিম শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করে। কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান জানান, আটক ব্যক্তিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের পক্ষে গোপনে কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন। যুবলিগের মিছিলের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণও পাওয়া গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করেছে।
