ক্ষমতায় থাকাকালীন অনৈতিক ভাবে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মহম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে। ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক দু'দিন আগে নিজেকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ বা ভিভিআইপি মর্যাদা দিয়ে সরকারি সুবিধা বহাল রাখেন তিনি। কিন্তু ইউনুসের ভিভিআইপি মর্যাদার সীমা ছয় মাস কমিয়ে দিল তারেক সরকার। এর ফলে ইউনুসের জন্য এক বছরের বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা সুবিধা কমে ছয় মাস হল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দু'দিন আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি নির্দেশিকা জারি করে ইউনুসকে ভিভিআইপি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখনকার প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লা পান্নার সই করা নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইনের ক্ষমতাবলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মহম্মদ ইউনুসকে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তরের তারিখের পর থেকে এক বছরের জন্য ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার গঠনের মাধ্যমে শেষ হয় অন্তর্বর্তী সরকারের বিতর্কিত দেড় বছরের শাসনকাল। এর প্রায় আড়াই মাসের মাথায় ড. ইউনুসকে দেয়া ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’র মর্যাদা কমিয়ে ছয় মাস করা হল।
এদিকে ইউনুসের শাসানকালে আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত অসম বাণিজ্যচুক্তি-সহ সকল জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি বাতিল দাবিতে সোমবার বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে ঢাকায়। সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোটের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিলটি জাতীয় সংসদের অভিমুখে যায়। তারা জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি ও সংসদ সদস্যদের খোলা চিঠি প্রদান করে। মিছিলে বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকার আমলে আমেরিকার সঙ্গে করা দেশবিরোধী চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে ইউনুসের মতো লোক দেশের শাসনভার গ্রহণ করেছেন, এটা আমাদের জন্য লজ্জার বলে মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী এবং মানবাধিকারকর্মী জেড আই খান পান্না।
