১২ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ভোট। নির্বাচনে অশান্তি এড়াতে রবিবার এক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে কমিশন। এই সিদ্ধান্ত একেবারেই পছন্দ হয়নি জামাতের দোসর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই নির্দেশ প্রত্যাহার করা না হলে মঙ্গলবার কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করা হবে। এদিকে ঢাকার অদূরে গাজিপুরে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণ হয়েছে। এই ঘটনায় জখম হয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি। বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন রবিবার যে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে ভোটকেন্দ্রের ভিতরে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না ভোটারেরা। এমনকী ভোটকেন্দ্রের ৩৬৫ মিটারের (৪০০ গজ) মধ্যে মোবাইল নিয়ে যাওয়া যাবে না। বুথ চত্বরে কেবলমাত্র ভোটকর্মীরাই ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। যেমন প্রিসাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, সেখানে নিযুক্ত আনসারবাহিনীর সদস্যেরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। ঢাকার মহম্মদপুরের একটি কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি বলেন, "হুঁশিয়ারি দিয়ে বলতে চাই, আজকে সন্ধ্যার মধ্যে এই বিধিবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তা না হলে আগামিকাল নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করা হবে।" হুঁশিয়ার এখানেই থামেনি। নাহিদ আরও বলেন, "আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি যদি কোনও পক্ষপাতিত্ব করার পরিকল্পনা থাকে, ফ্যাসিস্ট আমলে যে পরিণতি হয়েছিল, তার থেকেও করুণ পরিণত হবে কমিশনের।’’ কমিশনের সিদ্ধান্তে খুশি নয় সাধারণ মানুষের একাংশও। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে সাংবাদিকরাও বিপদে পড়তে পারেন।
ঢাকার অদূরে গাজিপুরে বিএনপির নির্বাচনী প্রচারে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণ হয়েছে।
এদিকে সোমবার বিকেলে টঙ্গি মাজার এলাকায় বিএনপির প্রচারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজিপুর-২ আসনের বিএনপির শেষ নির্বাচনী প্রচারের অংশ নিতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক টঙ্গি এলাকায় জড়ো হন। প্রচারকে বর্ণাঢ্য করতে মিছিলের আগে গ্যাস দিয়ে বেলুন ফোলানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় হঠাৎ একটি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে গোটা এলাকা কেঁপে ওঠে। পুড়ে জখম হন উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গি সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতদের মধ্যে অনেকের শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হয়েছে। বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। টঙ্গি সরকারি হাসপাতালের এমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাফিসা শারমিন বলেন, অনেকের অবস্থা গুরুতর। টঙ্গি পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন,
এই ঘটনা নাশকতা কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
