ভোটের আগেই ক্ষমতার চুলচেরা হিসেব শুরু করে দিল বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলি। জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে এসে রাজনীতি ময়দানে ছাত্রদের দল গড়েও সেই দল ছেড়ে বেরিয়ে জামাত-ই-ইসলামির হাত ধরা ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামকে এবার মন্ত্রিত্বের 'টোপ' দিল জামাত! রবিবার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে জামাত প্রধান শফিকুর রহমান স্পষ্ট ঘোষণা করেন, আসন্ন ভোটে তাঁদের জোট জিতলে নতুন সরকারে মন্ত্রীপদ পাবেন নাহিদ ইসলাম। শফিকুর রহমানের কথায়, ‘‘যে নাহিদ ইসলামকে এখানে প্রার্থী করা হয়েছে, এই নাহিদ ইসলামরা আগামীতে বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের পাইলট, ক্যাপ্টেন হিসেবে বসে যাবে। আর আমরা পিছনের আসনে যাত্রী হিসেব বসব। আমি বিশ্বাস করি, নাহিদ ইসলামরা বাংলাদেশকে সঠিক গন্তব্যে নিয়ে যাবে।''
জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে এসে রাজনীতি ময়দানে ছাত্রদের দল গড়েও সেই দল ছেড়ে বেরিয়ে জামাত-ই-ইসলামির হাত ধরা ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামকে এবার মন্ত্রিত্বের 'টোপ' দিল জামাত! রবিবার ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে জামাত প্রধান শফিকুর রহমান স্পষ্ট ঘোষণা করেন, আসন্ন ভোটে তাঁদের জোট জিতলে নতুন সরকারে মন্ত্রীপদ পাবেন নাহিদ ইসলাম।
রবিবার রাজধানী ঢাকার মেরুল বাড্ডায় ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে ঢাকা-১১ আসনের হয়ে প্রচারে আসে জামাতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। এই জোট সমর্থিত প্রার্থী নাহিদ ইসলামের নির্বাচনী প্রচার চলছিল। জনসভায় প্রধান অতিথি হয়ে বক্তব্য রাখতে ওঠেন জামাত-ই-ইসলামির প্রধান ড. শফিকুর রহমান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, একইসঙ্গে জুলাই সনদ কার্যকর করতে হবে গণভোটও। তার আগে মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি প্রচারের সময়সীমা শেষ। তাই শেষ লগ্নে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছে সবক'টি রাজনৈতিক দল। এদিন ডিআইটি প্রজেক্ট খেলার মাঠে নাহিদ ইসলামের প্রচারে এসে তাঁর হাতে জামাতের শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন শফিকুর রহমান। এরপরই তাঁর গলায় শোনা যায় নাহিদকে মন্ত্রী করার আশ্বাস।
নাহিদের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দিলেন শফিকুর রহমান।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ যুবকরাই, একথা জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশের দায়িত্ব দিতে চাই। আমরা বেকার ভাতা দিতে চাই না। জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশ নেওয়া তরুণরা কখনও বেকার ভাতা চায়নি। তাদের দাবি ছিল, অধিকার ও ন্যায্য কাজের সুযোগ। তরুণরা সেদিন রাস্তায় নেমে বলেছিল, আমাদের অধিকার দাও, আমাদের হাতে আমাদের ন্যায্য কাজ তুলে দাও।’’
নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থার দুরবস্থার কথা। তাঁর বক্তব্য, দেশে খেলার মাঠ, স্কুল, হাসপাতাল অপ্রতুল। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫% এলাকা পরিকল্পিত পয়ঃপ্রণালীর আওতায়, বাকি ৭০% এলাকায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজ সিস্টেম। তাঁদের জোট ক্ষমতায় এলে এসব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নাহিদ। কিন্তু ছাত্রনেতা নাহিদ থেকে এনসিপি প্রতিষ্ঠাতা হয়ে জামাত শিবিরে ভিড়ে যাওয়া নাহিদ - এত ঘনঘন ভোল বদলে বাংলাদেশের জনতার মনে প্রশ্ন, ভোটে জিতে মন্ত্রিত্ব পেলে কি আর এসব প্রতিশ্রুতির কথা মনে থাকবে?
