বাংলাদেশে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেই কাটল তাল। স্বমূর্তি ধারণ করল জামাত। মঙ্গলবার অনুষ্ঠান চলাকালীনই গণভোটে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপিকে কার্যত 'ব্ল্যাকমেল' করছে প্রধান বিরোধী দল। তাদের দাবি, বিএনপি যদি গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের জন্য শপথ না নেয়, তাহলে তাঁরাও শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করবেন। সংসদ সদস্য হিসেবেও কেউ শপথ নেবেন না। জামাত মনে করছে, সংস্কার ছাড়া নতুন সংসদ অর্থহীন। এদিকে বিএনপিও সংবিধান সংস্কারে নারাজ। দলের নির্বাচিত সাংসদদের যুক্তি, তাঁরা জনতার ভোটে নির্বাচিত, গণভোট তাঁদের সিদ্ধান্তে হয়নি। তা করেছিল পূর্বতন অন্তর্বর্তী সরকার। তাই তার দায় নতুন সংসদের নয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে ঢাকার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শুরু হয়েছে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ পর্ব। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নেবেন বিকেল ৪টে নাগাদ। তবে সংসদীয় দলনেতা হিসেবে ইতিমধ্যেই তিনি শপথবাক্য পাঠ করেছেন। এছাড়া গোটা দিন জুড়ে ছোটখাটো নানা অনুষ্ঠান রয়েছে।
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথগ্রহণ তারেক রহমানের। মঙ্গলবার, ঢাকার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। নিজস্ব ছবি
তবে এমন শুভ দিনে শুরুতেই তাল কাটল জামাত। দলের নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে 'প্রথম আলো'কে জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় তাঁদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তাঁরা সেখানে যাবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামাতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনও শপথই নেবেন না। কারণ তাঁরা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।
দলের নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মহম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে 'প্রথম আলো'কে জানিয়েছেন, দুপুর ১২টায় তাঁদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে। তাঁরা সেখানে যাবেন। তবে বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামাতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনও শপথই নেবেন না। কারণ তাঁরা মনে করেন, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।
এদিকে, বিএনপি এরই মধ্যে জানিয়েছে, সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁরা শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না। কারণ, তাঁরা ওই পরিষদের কোনও সদস্য নন। এনিয়ে মঙ্গলবার শপথ গ্রহণের আগেই কক্সবাজার-১ আসনে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘‘আমরা কেউ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হইনি। জাতীয় সংসদে সাংবিধানিকভাবে গৃহীত হলে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।’’ দলের চেয়ারম্যান অর্থাৎ তারেক রহমানের পক্ষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত জানাচ্ছেন বলে জানান সালাহউদ্দিন।
জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট অর্থাৎ দেশের সংবিধান সংস্কারের পক্ষে ৭৭ শতাংশ ভোট পড়লেও তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় ছিলই। কারণ, গণভোটের সিদ্ধান্ত ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের। তাই তার দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের নয়। গণভোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার রয়েছে নির্বাচিত সরকারের। এক্ষেত্রে দেশের সংবিধান সংস্কার আদৌ ইতিবাচক হবে কিনা, তা ভালোভাবে খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার।
