ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে কিশোরীকে বাবার হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যাকাণ্ডের মতো নৃশংস ঘটনার সাক্ষী থেকেছে পদ্মাপাড়ের জেলা। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মাঝেই পাবনার ঈশ্বরদীতে আরেক ঘটনা ঘিরে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়াল। বছর পনেরোর কিশোরী ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। নাতনিকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ খোয়াতে হল দিদাকেও। শনিবার সকালে পুলিশ দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে। বাড়ির পাশের সরষেখেত থেকে নাতনির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, ধর্ষণের পর প্রমাণ লোপাট করতে নাতনিকে হত্যা করা হয়েছে। গোটা বিষয়টিতে বাধা দিতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে প্রাণ দিতে হল দিদাকেও।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নিহত বৃদ্ধার ছেলে ঢাকায় কাজ করেন। বাড়িতে থাকতেন তাঁর মা ও মেয়ে। গতকাল, শুক্রবার রাতে ওই বাড়ি থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। কয়েকজন নিজেদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন, কী সমস্যা হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শব্দটি থেমে যাওয়ায় তাঁরা যে যার ঘরে ঢুকে যান। শনিবার সকালে প্রতিবেশীরা বাড়ির উঠোনে বৃদ্ধার লাশ দেখতে পান। নাতনিকে দেখতে না পেয়ে ঘরে ঢুকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। তারপর পাশের একটি সরষেখেতে কিশোরীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ মমিনুজ্জামান জানিয়েছেন, ''প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে দুষ্কৃতীরা মধ্যরাতে কিশোরী নাতনিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করলে বৃদ্ধা বাধা দেন। তখন বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়। এরপর কিশোরীকে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বিবস্ত্র অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হওয়ায় যৌন নির্যাতনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।''
ঢাকায় ৬ বছরের শিশু, নরসিংদীতে কিশোরী অপহরণ-ধর্ষণ-হত্যা এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে কিশোরীকে ধর্ষণ-খুন ও বৃদ্ধাকে খুনের মতো নৃশংস ঘটনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান বিরোদী দল জামাত-ই-ইসলামি। দলের সহকারী সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, "এসব মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করছি। তাদের ধর্ষণের পর পৈশাচিক কায়দায় হত্যা মানবতা, নৈতিকতা ও আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। এ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারপূর্বক অতি দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।''
