একমাসেরও বেশি সময় হয়ে গেলে স্বামীকে হারিয়েছেন। শোক কিছুটা থিতু হয়েছে। এখন চোখে প্রতিবাদের আগুন। এখন সময় মুখোমুখি দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তোলার। আর সেই ভূমিকাতেই অবতীর্ণ হলেন বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে তোলপাড় ফেলা চরিত্র, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র খুন হওয়া ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পার। ফেসবুক পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তুললেন, শহিদ ওসমান হাদির বিচারের কত দেরি? শম্পার পোস্টে স্পষ্ট লেখা, 'আমাদের বাংলাদেশে আমরা যারা বিচারের জন্য লড়াই করি তাদের লাইফটাইম প্রশ্ন এইটা!' বুধবার ইউনুসের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, হাদির পরিবারকে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনতে এক কোটি টাকা ‘বিশেষ অনুদান’ দেওয়ার পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে আরও এক কোটি টাকা দেওয়া হচ্ছে। তারপরই হাদির স্ত্রী শম্পার এই পোস্ট। আর এর নিশানায় যে ইউনুস প্রশাসন তা নিয়ে সন্দেহ নেই।
ফেসবুক পোস্ট করে হাদির স্ত্রী শম্পা প্রশ্ন তুললেন, শহিদ ওসমান হাদির বিচারের কত দেরি? শম্পার পোস্টে স্পষ্ট লেখা, 'আমাদের বাংলাদেশে আমরা যারা বিচারের জন্য লড়াই করি তাদের লাইফটাইম প্রশ্ন এইটা!'
এদিন ওসমান হাদির স্ত্রী শম্পা ফেসবুকে লিখেছেন, 'রাত পোহাবার কত দেরি পাঞ্জেরি?/শহীদ ওসমান হাদির বিচারের কত দেরি -?আমাদের বাংলাদেশে আমরা যারা বিচারের জন্য লড়াই করি তাদের লাইফটাইম প্রশ্ন এইটা! ইতিহাস দেখলে আমরা না পেয়েছি সাগর-রুনি হত্যার বিচার, না পেয়েছি আবরার ফাহাদ-এর বিচার আর এখন শুরু হচ্ছে শহীদ ওসমান হাদির। কত বার যে তারা পেছাবে সেটা আল্লাহই জানে। তবে আমাদের স্পষ্ট কথা, বিচার আমরা নিশ্চিত করেই ছাড়বো। কত মাস, দিন, ঘন্টা সময় নিবেন? হাদি হত্যার বিচার না হলে এই রাষ্ট্রে আর কখনো কারো জন্য মানুষ কাঁদবে না, রাস্তায় নামবে না, লড়াই করবে না।'
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, নিহত ওসমান হাদির স্ত্রীর ফেসবুক পোস্ট।
তিনি আরও লিখেছেন, 'এখন আসি অন্যকথায়, আপনারা যদি ভাবেন হাদির পরিবারকে এটা দিচ্ছি ওটা দিচ্ছি করে বিচার কাজ বন্ধ করবেন তাহলে সেটা আপনাদের চরম বোকামি। হাদি কি আর তাঁর পরিবারের একার আছে? সে তো সারা বাংলাদেশের। পুরো বাংলাদেশের মানুষ জানে কোথায় সমস্যা আর কেনো দেরি হচ্ছে বিচার কাজে। আপনারা যত দেরি করবেন আমরা ততবেশি ঐক্যবদ্ধ হবো।'
বুধবার ঢাকার অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নির্মিত রাজধানীর লালমাটিয়ার ‘দোয়েল টাওয়ার’ আবাসিক ভবনে ১২১৫ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য হাদির পরিবারের জন্য এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ফ্ল্যাটটি ব্যবহার করবেন তাঁর স্ত্রী ও সন্তান। কিন্তু হাদির স্ত্রী শম্পা এই প্রশাসনিক অনুদান, সাহায্য নিয়ে আগ্রহী নন। তাঁর একমাত্র চিন্তার বিষয় স্বামীর হত্যার বিচার, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা। শম্পার দাবি, 'আমার কনসার্ন হলো, যে কোন কিছুর বিনিময়ে আমার স্বামী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আর তাঁর রেখে যাওয়া আমানত আমার ছেলে ফিরনাসের সিকিউরড ভবিষ্যৎ।'
শম্পার দাবি, 'আমার কনসার্ন হলো, যে কোন কিছুর বিনিময়ে আমার স্বামী শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আর তাঁর রেখে যাওয়া আমানত আমার ছেলে ফিরনাসের সিকিউরড ভবিষ্যৎ।'
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। তাতে প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে নেমেছিলেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম তরুণ নেতা ওসমান বিন হাদি। আন্দোলনের জন্য তিনি 'ইনকিলাব মঞ্চ' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পর গত ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার কালভার্ট রোডের জনবহুল এলাকায় হাদিকে গুলিতে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনা নতুন করে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
