বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখ উৎসবটা অন্য যে কোনও উৎসব থেকে একেবারে ভিন্ন। প্রতি বছর বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিতে রঙিন শোভাযাত্রা এখানকার বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কিন্তু ইউনুস আমল থেকে এই পয়লা বৈশাখ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বাঙালির নিজস্ব পরিচয় কৃষ্টি, সংস্কৃতি বিরোধিতায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মৌলবাদীরা। নতুন তারেক রহমানের আমলেও সেই ট্র্যাডিশনে ছেদ পড়েনি। ফের নামবিভ্রাটে পড়েছে 'মঙ্গল শোভাযাত্রা' বা 'আনন্দ শোভাযাত্রা'। এসব শব্দ হিন্দুত্বের পরিচয় বহনকারী, এই অভিযোগ তুলে আবারও নাম বদল করা হয়েছে। বাংলাদেশের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায়চৌধুরী রবিবার জানিয়ে দিয়েছেন, এবার বাংলা নববর্ষবরণের শোভাযাত্রা আর 'আনন্দ' বা 'মঙ্গল' নামে হবে না। সেটি 'বৈশাখী শোভাযাত্রা' নামে উদযাপিত হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রীর কথায়, ‘‘পয়লা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কের কোনও মানে হয় না। আমরা কোনও বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এ অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা আনন্দ কিংবা মঙ্গল নামে নয়, বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে হবে। এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।’’
রবিবার ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রকের কনফারেন্স রুমে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। সংস্কৃতি মন্ত্রীর কথায়, ‘‘পয়লা বৈশাখ উদযাপনের লক্ষ্যে শোভাযাত্রার নাম আনন্দ কিংবা মঙ্গল নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। এই বিতর্কের কোনও মানে হয় না। আমরা কোনও বিভাজন চাই না। বৈচিত্র্যের মাধ্যমে আমরা ঐক্য চাই। এ অবস্থায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবারের পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রা আনন্দ কিংবা মঙ্গল নামে নয়, বৈশাখী শোভাযাত্রা নামে হবে। এখন থেকে প্রতিবছর এই নামই থাকবে।’’
এবারের পয়লা বৈশাখে উদযাপনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘‘পুলিশের পাশাপাশি বিএনসিসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থাও থাকবে।’’ জুলাই স্মৃতি জাদুঘর চালু নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘‘এই জাদুঘরে কিছু কাজ বাকি রয়েছে। সেগুলো শেষ করলেই শিগগিরই চালু হবে।’’
