দেশত্যাগের দু'বছর পূর্তির দিনে এক অনুষ্ঠানে মুখ খুলেছেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর হুঙ্কার, চলতি বছরই ডিসেম্বর মাসে দেশে ফিরবেন। কিন্তু হাসিনার এই মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করল ঢাকা। তাদের দাবি, এই অনুষ্ঠান নিয়ে ভারতের কাছে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এই অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। তার প্রভাব ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে পড়বে। কিন্তু হাসিনার মন্তব্যের পরেই শাকিব আল হাসানের বাড়িতে হামলা, আওয়ামি লিগ কর্মীদের উপর নির্যাতন নিয়ে একটি শব্দও খরচ করেনি বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক।
ঢাকার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পরক রাখতে চায় বাংলাদেশ। একে অপরের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে এই সম্পর্ক রাখা দরকার। কিন্তু গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে যেভাবে বক্তব্য পেশ করার অনুমতি দেওয়া হল তাতে গোটা দেশ ক্ষুব্ধ। ভারতকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল এই অনুষ্ঠান নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির বিষয়টি।' ঢাকার তোপ, হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধে পাত্তা দিচ্ছে না ভারত, অথচ হাসিনাকে মিডিয়ায় কথা বলার অনুমতি দেওয়া হল। জুলাই আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে এহেন উদ্যোগ বাংলাদেশকে আঘাত দিয়েছে বলেও দাবি ঢাকার।
হাসিনার মন্তব্যের পরেই শাকিবের মাগুরার বাড়িতে হামলা হয়েছে। বোমা পড়েছে, আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আওয়ামি লিগের কথায়, বাংলাদেশে তাদের দলীয় কর্মীদের উপর কীভাবে নির্যাতন চলছে, এটাই তার প্রমাণ। অথচ এই ইস্যু নিয়ে নীরব ঢাকা। দেশের ক্রিকেট আইকনের বাড়িতে হামলা হল, কিন্তু সেটার প্রতিবাদটুকু শোনা যায়নি। বুধবার দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে ভারচুয়ালি বক্তব্য রাখেন হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, পুলিশি হেফাজতে আওয়ামি কর্মীদের খুন করা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যম আক্রান্ত। সেই হিংসা নিয়েও তারেক রহমানের সরকার নীরব।
ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জয় বলেন, “এই মুহূর্তে আপনাদের পূর্বে যে দেশটি রয়েছে সেটি আর একটি পাকিস্তান। আইএসআই বাংলাদেশকে পরিচালনা করছে। পাক ঘনিষ্ঠ মৌলবাদীদের বাড়বাড়ন্ত, হিজবুত তাহরিরের মতো সংগঠন সক্রিয়ভারত বিশ্বের বৃহত্তর গণতান্ত্রিক দেশ। ভারতের সংবাদমাধ্যম স্বতন্ত্র। তাই আমার আবেদন বাংলাদেশের বর্তমান বেহাল অবস্থার কথা ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যেন তুলে ধরে। তাহলে আন্তর্জাতিক আঙিনায় বিষয়গুলি প্রকাশ্যে আসবে। বাংলাদেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে না আনলে ভারতেরও ভবিষ্যৎ বিপন্ন।”
