বাংলাদেশ হাই কোর্টের নির্দেশে দু'টি মামলা জামিন পেলেন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। রবিবার বিচারপতি কেএম জাহিদ সরওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে। দুই মামলায় জামিন পেলেও এখনই জেলমুক্তি হচ্ছে না চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের। যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে। যেগুলির এখনও পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি।
রবিবার চিন্ময় দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য মিডিয়াকে বলেন, চিন্ময়প্রভুর বিরুদ্ধে মূলত ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত হয়েছে। অপর চার মামলার মধ্যে দু'টিতে জামিন প্রশ্নে রুল অ্যাবসলিউট (যথাযথ) ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট; অর্থাৎ দুই মামলায় তিনি জামিন পেলেন। বাকি দুই মামলায় ১৬ আগস্ট জামিনের বিষয়টি ধার্য হবে।
জাতীয় পতাকা অবমাননায় অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলায় তাঁর জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় নিহত আইনজীবীর বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এ ছাড়া হত্যাচেষ্টা, হামলা, সরকারি কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারটি মামলা হয়।
সেই সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের গ্রেপ্তারির ঘটনায় 'গভীর উদ্বেগ' প্রকাশ করেছিল ভারত। 'হিন্দু-সহ সমস্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ে'র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয় দিল্লির তরফে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতা হারানোর পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের অবনতি হয়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসনকালেই অশান্ত পদ্মাপাড়ে গ্রেপ্তার হন সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র। যদিও এখন পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। ভোটে জিতে সরকার গড়েছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জমানায় ধীরে ধীরে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জেলমুক্তির অপেক্ষায়।
