২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি ভারতে পাড়ি জমান। দলের নেতা-কর্মীরাও দেশে-বিদেশে অন্তরালে চলে যান। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মহম্মদ ইউনুস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ইউনুস সরকারের শাসনামলে ফ্যাসিস্ট আখ্যা দিয়ে আওয়ামি লিগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। অভিভাবকহীন আওয়ামি লিগ এখন নানাভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এবার মুক্তিযোদ্ধা তথা বর্ষীয়ান আওয়ামি নেতা তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলল নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় আটক করা হয়েছে অনেককে।
উনসত্তরে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আয়ুব খান বিরোধী গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা থেকে শুরু করে স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক ছিলেন তোফায়েল আহমেদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিবও ছিলেন তিনি, মন্ত্রী এবং নয়বারের সংসদ সদস্য হিসেবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সংসদীয় রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় সক্রিয় ভূমিকা রেখে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন। প্রায় ছয় দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অংশীদার ছিলেন। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকটাই নিভৃতে সময় পার করেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।
সোমবার সন্ধ্যায় সোয়া ৭টার দিকে বর্ষীয়ান নেতা তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য শেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের নেতাকর্মীরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন। এ কাণ্ড রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের সামনে ঘটে। মুক্তিযুদ্ধের সময়ের ‘জয় বাংলা’স্লোগানটি দিলে ধানমন্ডি থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় ১০ থেকে ১৫ জনকে আটক করাও হয়।
পুলিশ জানায়, বিকেলে তোফায়েল আহমেদের শেষকৃত্য অনুষ্ঠান চলছিল। ওই আনুষ্ঠান শেষে দলটির নেতাকর্মীরা মসজিদের সামনে জড়ো হয়ে মিছিল বের করার চেষ্টা করেন এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। মিছিল বের করার সময় আটক করে গাড়িতে করে কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তোফায়েল আহমেদ। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শেখ হাসিনা সরকারের শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। পরে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে ১৯৭৫ সাল থেকে টানা ৩৩ মাস-সহ অসংখ্যবার জেলবাস করেন এই নেতা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামি লিগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন।
